বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২১ কোটি টাকা গ্রহণ করে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে মার্কিন কর নথিতে এই লেনদেনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ফিফার আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা এফডব্লিউসি২০২৬ থেকে অতিরিক্ত ১৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছেন ইনফান্তিনো। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রার হিসেবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) নথিতে এই আর্থিক হিসাবটি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন ও সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এফডব্লিউসি২০২৬ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা গঠন করেছিল ফিফা। ওই সংস্থাটির ২০২৪ সালের করসংক্রান্ত নথিতে ইনফান্তিনোকে দেওয়া এই অর্থের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও, ফিফার নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদনে তা গোপন রাখা হয়েছে।

আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ফিফা থেকে নিয়মিত বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন ইনফান্তিনো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এখন বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থটি যুক্ত করলে ওই বছর তার মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮১ কোটি টাকা।

এই ঘটনা ফিফার নিজস্ব বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকে। সংস্থাটির গঠনতন্ত্রের ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য এবং মহাসচিবের ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। বার্ষিক প্রতিবেদনে এই অতিরিক্ত অর্থের তথ্য না থাকায় বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিফা। ইএসপিএনকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, "ইনফান্তিনোকে ফিফা থেকে দ্বিতীয় কোনো বেতন দেওয়া হয় না। তার বার্ষিক পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করে স্বাধীন একটি উপকমিটি।"

ফিফার আরও দাবি, আর্থিক তথ্য প্রকাশে তাদের কোনো ভুল বা ব্যত্যয় ঘটেনি। সংস্থাটির যাবতীয় হিসাব-নিকাশ স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর আইন মেনে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাটি স্থগিত করতে হয়।