চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াইয়ে প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। বিরতির পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে হ্যারি কেইনের জোড়া গোল এবং লুইস দিয়াজের গোলে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে নরওয়ের ক্লাব ভাইকিংয়ের সঙ্গে ৩–৩ ব্যবধানে ম্যাচটি ড্র করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নরওয়ের স্তাভাঙ্গারের লাইসে অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। শুরু থেকেই স্বাগতিকদের আক্রমণাত্মক খেলার সামনে বিপাকে পড়ে বায়ার্ন। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জিয়ানি স্টেনসনেসের গোলে লিড নেয় ভাইকিং। এরপর ৩৮ মিনিটে পিটার ক্রিস্টিয়ানসেনের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া হয় সফরকারীদের।
ম্যাচের শুরুতেই কর্নার থেকে গোল পায় ভাইকিং। জ্লাতকো ত্রিপিচের নেওয়া কর্নারে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান স্টেনসনেস। এই গোলে বায়ার্নের গোলরক্ষক ইয়োনাস উরবিগের তেমন কিছু করার ছিল না। শুরুর ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করে বায়ার্ন। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় সফরকারীরা। তবে ভাইকিংয়ের গোলরক্ষক আরিল্ড ওস্তবোর দৃঢ় দেয়ালের সামনে বারবার হতাশ হতে হয় কেইনদের।
১৮ মিনিটে হ্যারি কেইনের হেড ঠেকিয়ে দেন ওস্তবো। এরপর ৩৪ মিনিটেও কাছ থেকে নেওয়া ইংলিশ ফরোয়ার্ডের আরেকটি হেড রুখে দিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি। বায়ার্নের এই আক্রমণের মধ্যেই ৩৮ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল পায় ভাইকিং। এরিক বোতহেইমের নিখুঁত পাস থেকে শটে বল জালে পাঠান ক্রিস্টিয়ানসেন।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ দেখায় জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান হ্যারি কেইন। এর ঠিক ছয় মিনিট পর ইয়োশুয়া কিমিখের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ২–২ সমতা ফেরান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
সমতায় ফিরেই আক্রমণের চাপ ধরে রাখে বায়ার্ন। সেই ধারাবাহিকতায় ৭১ মিনিটে তারা এগিয়ে যায়। কনরাড লাইমারের সহায়তায় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন তখন জয়ের পথে ছিল। কিন্তু তিন মিনিট পরই ম্যাচের মোড় বদলে যায়। ৭৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় মাইকেল ওলিসেকে। ফলে ম্যাচের বাকি সময় দশজনের দলে পরিণত হয় বায়ার্ন।
সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষদিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ভাইকিং। বায়ার্নের রক্ষণভাগ তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যবধান ধরে রাখতে। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আটকাতে ব্যর্থ হয় তারা। ৯০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা হারমান হাউগেন ভাইকিংকে সমতায় ফেরান। ত্রিপিচের সহায়তায় গোল করে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন এই নরওয়েজিয়ান ডিফেন্ডার। আর এভাবেই শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হয় বায়ার্নের।
এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে আরেক নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোদো/গ্লিম্টকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল বায়ার্ন। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে এই ড্রয়ের পর দুই ম্যাচে তাদের সংগ্রহ চার পয়েন্ট।