মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে আগ্রহী যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী। বিদেশি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারসের জোনাথন প্রাইস এবং নিকিলা কৌশিক। গত ১ অক্টোবর ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁরা এই আবেদনটি প্রেরণ করেন।
এদিকে, ফারজানা রুপার পক্ষে এই দুই ব্রিটিশ আইনজীবীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বুধবার বার কাউন্সিলে পৃথক একটি আবেদন দাখিল করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুব শফিক। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিদেশি দুই আইনজীবী ই-মেইলে যে আবেদন করেছিলেন, তার মুদ্রিত কপি (হার্ড কপি) আজ বার কাউন্সিলে জমা দেওয়া হয়েছে।”
মাহবুব শফিক আরও জানান, বার কাউন্সিলে জমা দেওয়া আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালে ফারজানা রুপার আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারসের আইনজীবী জোনাথন প্রাইস ও নিকিলা কৌশিক ১ অক্টোবর ই-মেইলে আবেদন করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ১ নভেম্বর ফারজানা রুপার মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি কোনো আইনজীবীর উপস্থিতির জন্য বার কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের আবেদনের বিষয়ে বার কাউন্সিল থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, তাই ফারজানা রুপার পক্ষে বিদেশি আইনজীবীদের জরুরি ভিত্তিতে এই মামলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার নামও রয়েছে। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য গত ডিসেম্বরে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। একইভাবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানও গত জানুয়ারিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য বার কাউন্সিলে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে এসব আবেদনের কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত বার কাউন্সিল কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।