সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। এই মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মছলম উদ্দিন একাডেমি থেকে প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে মারধর করার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।

গ্রেপ্তারকৃত এনামুল ইসলাম (৫৩) সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের ইসলাম আলীর পুত্র এবং মছলম উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, তার ছেলেকে প্রায় চার মাস ধরে ধর্ষণ করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল করিম কাশেমী বলেন, ঘটনাটি জানার পর তারা ভুক্তভোগীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। তিনি এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয় লোকজনের তীব্র ক্ষোভের মুখে থাকা প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বলেন, মছলম উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।