শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের সম্পর্কটা শুধু মিলিয়ে পরার নয়; বরং একে অন্যকে ফুটিয়ে তোলারও। ব্লাউজের কাট, কাপড়, হাতা কিংবা নকশায় সামান্য পরিবর্তনেই বদলে যেতে পারে শাড়ির পুরো সাজ। তবে কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন—সেটিও ভাবনায় থাকলে ভালো ব্লাউজ বেছে নেওয়ার সময়। লাল-সাদা রং বেশি পরা হয় পূজার সময়। রং একই হলেও কাট আর সাজে নিয়ে আসা যায় ভিন্নতা।
সুতি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনভাবে ভাবা যায়। চাইলে এর সঙ্গে সিল্কের ব্লাউজও পরা যায়। তবে সিল্কটা যদি একটু ম্যাট ধরনের হয়, তাহলে সুতি শাড়ির সঙ্গে বেশ ভালো মানায়। আবার সুতি শাড়িতে যদি কাজ থাকে, সে ক্ষেত্রে একটু চকচকে সিল্কের ব্লাউজও সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। মসলিন শাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য কাপড় বাছাইয়ে একটু সতর্ক হওয়া ভালো। মসলিনের সঙ্গে মসলিন বা সিল্কের ব্লাউজই বেশি মানানসই; সুতির ব্লাউজ এখানে খুব একটা যায় না।
ম্যাট সিল্কের ব্লাউজে চিকন লেস বা সামান্য হাতের কাজ থাকলে সেটি আরও বহুমুখী হয়ে ওঠে। একটা সাধারণ রঙের এমন ব্লাউজ বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ির সঙ্গেও পরা যায়। তবে ব্লাউজের কাট বাছাইয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে শাড়িটি কী ধরনের, কোথায় পরা হচ্ছে এবং কীভাবে সাজটি করতে চাইছি তার ওপর। এমনটাই জানালেন অনলাইনভিত্তিক ব্লাউজের দোকান ডাস্টকোট: দ্য ব্লাউজের স্বত্বাধিকারী আর ডিজাইনার আনারকলি খান।
ফুলচোলি কাটের ব্লাউজ সাধারণত উৎসবের সাজে বেশি ভালো লাগে। এতে কারচুপি বা অন্য কোনো কাজ থাকলে মসলিন কিংবা বেনারসি কাতানের সঙ্গে পরলে বেশ অভিজাত লাগবে। অন্যদিকে টপ-স্টাইলের ব্লাউজে কাটিং ও কাজ তুলনামূলক কম থাকে। দেখতে অনেকটা টপের মতো হওয়ায় এটি শাড়ির সঙ্গে পরলেও সহজ–স্বচ্ছন্দ একটা সাজ তৈরি করে। বিশেষ করে পূজা বা অন্য উৎসবে, যখন একটু আরামদায়কভাবে সাজতে চাই, প্লিট করে পরা শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের ব্লাউজ বেশ ভালো মানায়। যাঁরা শাড়ির আঁচল ছেড়ে রাখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আধা হাতা বা পুরো হাতার সাধারণ কাটের ব্লাউজ বেশ ভালো মানায়। তবে বিষয়টি অনেকটাই বয়স, শাড়ির ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে।
মসলিন শাড়ির আঁচল সাধারণত প্লিট করে পরার চেয়ে ছেড়ে রাখলেই বেশি সুন্দর লাগে। একইভাবে কিছু সুতি শাড়ির আঁচলে যখন সুন্দর কাজ থাকে, তখন সেটিও ছেড়ে রাখলে শাড়ির নকশাটা ভালোভাবে ফুটে ওঠে। দেশীয় বেনারসি বা কাতানের ক্ষেত্রেও আঁচল ছেড়ে রাখলে শাড়ির নিজস্ব আবেদন বজায় থাকে। মূল বিষয় হলো শাড়ি ও ব্লাউজ—দুটোরই আলাদা সৌন্দর্য যেন প্রকাশ পায়। কোনোটিই যেন অন্যটিকে ছাপিয়ে না যায়। তাই শাড়ির ধরন ও আঁচল কীভাবে পরা হচ্ছে, সেটি বুঝে ব্লাউজের কাট ও নকশা বেছে নেওয়া জরুরি।
সাদা-লালের পূজার চেনা সাজকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে টপ-স্টাইলের এই ব্লাউজের সঙ্গে বেনারসি কাতানের কোটি যুক্ত করা হয়েছে।
হাতাকাটা হাফ চোলির ব্লাউজটিতে আরাম ও স্টাইল দুটোই পাওয়া যাবে। পাইপিংয়ের মাধ্যমে সামনের এবং পেছনের অংশের কাট ও নকশাকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এই ব্লাউজের বিশেষত্ব মূলত সূচিকর্মে।
করসেট স্টাইলে বানানো ব্লাউজ এখন তরুণীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। গামছা চেকের শার্ট ও বেল্ট পুরো সাজে নিয়ে এসেছে নতুনত্ব। চাইলে শার্টটি আলাদাভাবে পরা যাবে। আবার করসেটের সঙ্গে গামছার শার্টের বদলে অন্য রঙের শার্টও পরা যাবে। এই দুটো অংশই অন্য কোনো ধুতি-স্টাইলে পরা শাড়ির সঙ্গে যেমন মানায়, তেমনি টপটি লেহেঙ্গা বা জিনসের সঙ্গেও পরা যাবে।
দেশি উপকরণের সঙ্গে পশ্চিমা ধাঁচের স্টাইলিংই এর বিশেষত্ব। যাঁরা শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস, হাফ স্লিভ বা সাধারণ ব্লাউজের বদলে একটু ভিন্ন ও পশ্চিমা ধাঁচের সাজ চান, তাঁদের জন্য এই নকশা।