প্রবাসী কার্ডধারীরা যদি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, তবে তাঁদের জন্য ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড চালুর কার্যক্রম চলছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনও করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা 'রামরুর' তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের একটি অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মো. নুরুল হক বলেন, “দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডিং করা হলে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০টি এজেন্সি টিকে থাকতে পারে।” তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করা অনেক সহজ হবে।

অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।”

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার মোট ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ চার থেকে পাঁচটি দেশে বর্তমানে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ পরিশোধের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার এবং বিশেষ ছাড় পাওয়ার সুবিধাও এই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রবাসীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে নুরুল হক বলেন, “পাসপোর্ট করতে গিয়ে দালালের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত খরচ, বিদেশে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণেও প্রবাসীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

জমিজমা সংক্রান্ত আইনি জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এই লক্ষ্যে ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাত দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় বর্তমানে চলমান ‘রেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দক্ষ কর্মী তৈরির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি ও কাজের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন দেশের চাহিদা ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের সেবা সহজ করা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে তাঁদের উৎসাহিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।