মঙ্গলবার দেশের বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। একই সাথে রুপার দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার মূল্যহ্রাসের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে ৯ অক্টোবর সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই দাম বৃদ্ধির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে এই দুই ধাতুর দাম কমানো হয়েছে। তবে এই মূল্যহ্রাসের মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।
মূল্য কমানোর আগে সোনার দামের চিত্র ছিল নিম্নরূপ: ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
সোনার পাশাপাশি আজ রুপার দামও হ্রাস পেয়েছে। প্রতি ভরি রুপার দাম সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা কমেছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম হয়েছে ২ হাজার ৬২৪ টাকা। উল্লেখ্য, সোনা ও রুপার এই দামের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩২ ডলার ও রুপার দাম ৪২ সেন্ট বেড়েছে। তবে সামগ্রিক হিসাব করলে দেখা যায়, গত এক মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৪৫ ডলার কমেছে। মূলত বিশ্ববাজারে সোনার দাম যে ধারাবাহিকভাবে কমছে, তার প্রভাব হিসেবেই দেশের বাজারে দাম কমানো হয়েছে।
সাধারণত যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, সোনার দাম উল্টো কমছে। এই সময়ে মার্কিন ডলার–ভিত্তিক বন্ডের সুদ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা সেদিকে বেশি ঝুঁকেছেন। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ার এটাই প্রধান কারণ। গত ছয় মাসে সোনার দাম মোট ৬৫৯ ডলার কমেছে।