১৪৪৮ হিজরি বা ২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আরও ২৫০ জন সহকারী নেগরান এবং ৫৫ জন মুমতাহিন নিয়োগ করতে যাচ্ছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। তবে যারা ইতিপূর্বে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।

নেগরান পদের জন্য নির্ধারিত শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) শ্রেণির বর্তমান শিক্ষক হতে হবে। সেই সঙ্গে দাওরায়ে হাদীসের কিতাব পাঠদানে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। এছাড়া পরীক্ষার হল পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতা, প্রধান নেগরানের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার ক্ষমতা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয়তা ও আমানতদারি বজায় রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। পাশাপাশি আল-হাইআতুল উলয়া কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন কর্মশালা ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করতে প্রার্থীকে সম্মত হতে হবে।

অন্যদিকে, মুমতাহিন পদের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) শ্রেণির বর্তমান শিক্ষক হতে হবে এবং দাওরায়ে হাদীসের কোনো কিতাব পাঠদানে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া দাওরায়ে হাদীস অথবা ফযিলত স্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কিতাব ও বিষয়ে উচ্চমানের দক্ষতা ও গভীর অনুধাবনের পাশাপাশি আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটি নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রস্তুতি থাকতে হবে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য ২০২৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কার্যক্রমটি প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সাধারণত প্রত্যেক মুমতাহিনকে ৩০০ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র প্রদান করা হতে পারে, তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। বোর্ডের পরীক্ষক হলে উত্তরপত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মুমতাহিনদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তাদের নিজ নিজ কিতাবের নমুনা উত্তরপত্র তৈরি করে মূল্যায়নকেন্দ্রে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। প্রতিদিনের মূল্যায়ন শেষে সংশ্লিষ্ট দিনের প্রাপ্ত নম্বর সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে। কার্যক্রমের শেষ দিনে সফটওয়্যারে সংরক্ষিত নম্বরের প্রিন্ট কপি নিয়ে উত্তরপত্রে লেখা মোট নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। যদি কোনো অসংগতি পাওয়া যায়, তবে তা সংশোধন করে নম্বরের ক্রমানুসারে উত্তরপত্রগুলো সাজাতে হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া হিসেবে সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর মুহতামিম অথবা নাজিমে তা‘লীমাতের স্বাক্ষর ও সিলসহ নিজ নিজ মাদরাসা এডমিনের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য নির্ভুলভাবে উল্লেখ করতে হবে। নেগরান ও মুমতাহিন পদের ক্ষেত্রে যদি পূর্ববর্তী বছরের মুমতাহিন আইডি থাকে, তবে তা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীর সাম্প্রতিক রঙিন ছবি এবং সম্পূর্ণ পূরণ করা আবেদন ফরমের স্পষ্ট স্ক্যান কপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

আবেদন ফরম সংগ্রহের জন্য নেগরান পদের জন্য https://shorturl.at/ttqHv এবং মুমতাহিন পদের জন্য https://shorturl.at/pzib6 ঠিকানায় ভিজিট করতে বলা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১ নভেম্বর বা ২০ জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকিদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হতে পারে। মনোনীত কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার আগে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে, প্রয়োজন অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও মুহতামিমদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে আল-হাইআতুল উলয়া। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছেন অফিস ব্যবস্থাপক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মু. অছিউর রহমান।