জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম ও খুলনা। সিলেটে বোলিং করেছেন ঢাকার ১১ খেলোয়াড়ই।
প্রথম ইনিংসে ১১৯ রানে অলআউট হয়েছিল রাজশাহী বিভাগ। সেই দল আজ মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে তৃতীয় দিন শেষ করেছে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩০০ রান তুলে। তবে এখনো বিপদ কাটেনি দলটির। খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে যে এখনো ৬৫ রানে পিছিয়ে তারা।
৯ উইকেটে ৪৬৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৮৪ রানে। এরপর রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ সূচনা এনে দেন হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেন। উদ্বোধনী জুটিতে ১২৬ রান যোগ করেন তাঁরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে দাঁড়িয়ে সামিউন বাসীরের বলে লং অফে আফিফের ক্যাচ হন হাবিবুর। ৮৩ বলে ৯০ রান করার পথে ৬টি চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মারেন এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। আরেক ওপেনার সাব্বির হোসেনও সেঞ্চুরি হারিয়েছেন। নাঈম আহমেদের সঙ্গে ১১৩ রানের জুটি গড়ার পড় ম্যাচে মেহেদী হাসানের সপ্তম শিকার হন ৮৮ রান করে। ২১ বছর বয়সী নাঈম ফিরেছেন ৬৯ রান করে। দিন শেষে অধিনায়ক প্রিতম কুমার ২৭ ও সাব্বির রহমান ২১ রানে অপরাজিত আছেন।
আগামীকাল শেষ দিনে নাটকীয় কিছু না ঘটলে ড্র-ই হতে যাচ্ছে সিলেট ও ঢাকা বিভাগের ম্যাচ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন দিনেও শেষ হয়নি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস। গতকাল ৬ উইকেটে ৫৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। ২ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট তৃতীয় দিনটা শেষ করেছে ৫ উইকেটে ৪৩১ রান তুলে। চার ব্যাটসম্যান ফিফটি পেয়েছেন। সর্বোচ্চ ৮৯ রান আসাদুল্লাহ আল গালিবের। ৮১ রান করে অপরাজিত আছেন আশরাফুল হাসান। এ ছাড়া অধিনায়ক জাকির হাসান ৬৫ এবং সৈকত আলী করেছেন ৬০ রান। ২ রানের জন্য ফিফটি পাননি মুবিন আহমেদ।
ব্যাটসম্যানদের আরেকটি দিনে ঢাকা বিভাগের ১১ খেলোয়াড়ই বোলিং করেছেন। উইকেটকিপিং ছেড়ে অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামও করেছেন ১ ওভার। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে খেলা ২৬৩ ম্যাচে এই প্রথম বল করলেন মাহিদুল।
বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র সপ্তমবার এক ইনিংসে ১১ বোলার বোলিং করলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেটেই সিলেটের বিপক্ষে ঢাকার ১১ বোলার বল করেছিলেন। এর আগেও একবার ঢাকা ১১ বোলার ব্যবহার করেছে। জাতীয় লিগে ঢাকা বিভাগ ও বিসিএলে মধ্যাঞ্চল তিনবার করে করেছে এই কাণ্ড।
সিলেট একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে রংপুর। প্রথম ইনিংসে ১২৭ রানের লিড নেওয়া দলটি এগিয়ে গেছে ৩২২ রানে। ৬ উইকেটে ১৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে অলআউট ২৯৫ রানে। ওপেনার খালিদ হাসান ৭২ এবং অলরাউন্ডার আবু হায়দার করেছেন ৫২ রান। রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৪ রান করেছেন অধিনায়ক আকবর আলী।
কক্সবাজারে ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বরিশাল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করা দলটি চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংসের চেয়ে পিছিয়ে আছে ১৪৫ রানে। বরিশাল অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন করেছেন সর্বোচ্চ ৭৪ রান।
এর আগে ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম অলআউট হয় ৫৭৬ রানে। সাদিকুর রহমান (১৪৯), শাহাদাত হোসেনের (১০৯) পর আজ সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৯২ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইরফান শুক্কুর (১১২)।