চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গতকাল রোববার থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন রোগী। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এই সব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মোট ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৫২ জন এবং নারী ১৫৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৯ জন, যা মোট ভর্তি হওয়া রোগীর ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, নারী রোগীর সংখ্যা ৮৩৭ জন, যা মোট রোগীর ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৩১২ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগীয় তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের (ঢাকা মহানগরীর বাইরে) বিভিন্ন হাসপাতালে—৪৮৪ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ২৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৫৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশন বাদে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন—১৮ হাজার ২৭৫ জন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগের হাসপাতালগুলো, যেখানে ভর্তি হয়েছেন ১৬ হাজার ১৩৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং ওই মাসেই মারা গেছেন ১৪৮ জন। অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৮১ জন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪০৯ ও ৩৫৩ জনে নেমে আসে। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে রোগীর সংখ্যা পুনরায় বাড়তে থাকে। জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।