মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ৮৪টি পূজামণ্ডপ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করেছে। বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারি কনসাল এবং লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
আয়োজক মহলের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে অনিরুদ্ধ কুমার রায় এই আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি তাঁর জন্মদাত্রী মা শ্রীমতী গীতা রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁর নামেই এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিঙ্গাইর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সজীব কুমার সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুন নাহার, সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম এবং উপজেলা কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির। উক্ত অনুষ্ঠানে অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের মা গীতা রায়সহ সিঙ্গাইর উপজেলা ও সিঙ্গাইর পৌর এলাকার ৮৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুদানের বিষয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম খান বলেন, “এ সহায়তা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অনিরুদ রায় সেই কাজ করে আসছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হাজার বছরের ঐতিহ্য। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ দেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের সম–অধিকার। শারদীয় দুর্গোৎসবে মায়ের প্রতি ভালোবাসা ধারণ করে ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়ের এমন উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে।”
আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের বাঙ্গারা গ্রামের বাঙ্গালা-নবগ্রাম সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল রাজবংশী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “১৫ বছর ধরে বিভিন্নজনের বাড়ির উঠানে পূজার আয়োজন করা হতো। চার বছর ধরে মন্দিরের নিজস্ব জায়গায় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজা আয়োজনে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়নসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় বেশ খরচ হয়ে থাকে। এই অনুদান অনেকটা সহায়ক হবে।”
একইভাবে, উপজেলার জার্মিতা ইউনিয়নের চন্দনপুর গ্রামের চন্দনপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন দাস বলেন, “পূজায় আমাদের বিভিন্ন কেনাকাটা ও আয়োজনে অনেক খরচ হয়ে থাকে। অনিরুদ্ধ রায় বাবুর এই অনুদান আমাদের সহায়তা হবে।”
বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনিরুদ্ধ কুমার রায় বলেন, “মায়ের সেবা না করে যদি দেবীর আরাধনা করি, সৃষ্টিকর্তা কতটুকু গ্রহণ করবেন তা তিনিই জানেন। আমি যেটা মনে করি এবং বিশ্বাস করি তা হচ্ছে, যে জন্মদাত্রী মাকে শ্রদ্ধা করতে পারি, সেবা করতে পারি, ভক্তি করতে পারি; জীবনের সবচেয়ে পড়ন্ত সময় যে উঠে দাঁড়ায় তার জীবন্ত উদাহরণ আমি।”