সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের নামে একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘ভারতীয় ককরোচ পার্টির চেয়ারম্যান দিকনির্দেশনা চেয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিল। এই আন্দোলন কীভাবে চালাবে সেটা তাঁকে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিয়েছি।’ তবে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সারজিস আলম এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজের পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিধানসভার বিধায়ক মানব গুহ তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে সারজিস আলমের ছবি ও এই বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ডটি পোস্ট করেন। গত ১১ অক্টোবর ওই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ব্যস এটাই দেখার বাকি ছিল, অকৃতজ্ঞ ছারপোকাদের পরামর্শ নিল বিদেশি আরশোলারা। যদি সত্যি হয়, ষোলোকলা পূর্ণ হলো। ইতালির প্রাক্তন বার ড্যান্সার আর তার মগজহীন দেশদ্রোহী পাপ্পুকে গদিতে বসাতে, আমেরিকার টাকায় নিযুক্ত আরশোলাদের এবার পরামর্শ দিচ্ছে ও সাহায্য করবে, আমেরিকারই টাকায় চলা বাংলাদেশি ছারপোকারা। কেয়া বাত, বহুত খুব, বাজাও তালি।’

উল্লেখ্য যে, ওই ফেসবুক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ আরও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সংগঠনকে ট্যাগ করা হয়েছিল।

তদন্তে দেখা গেছে, এই বিতর্কিত বক্তব্যের মূল উৎস হলো ‘Gupto TV’ নামের একটি ফেসবুক পেজ। ওই পেজটি মূলত একটি স্যাটায়ার বা প্যারোডি পেজ, যেখানে সমসাময়িক ঘটনা ও আলোচিত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যেমন—ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে কাল্পনিক ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। পেজটির বায়ো-তেও এটিকে প্যারোডি পেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ওই পেজে প্রথম এই ফটোকার্ডটি প্রকাশ করা হয়, তবে সেখানে বক্তব্যের কোনো প্রকৃত সূত্র দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিধায়ক মানব গুহ সেটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিআইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছে ভারতের অরাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সমালোচনা ও অভিযোগের মাঝেই সারজিস আলমের নামে এই মিথ্যা বক্তব্যটি প্রচার করা হচ্ছে।

দাবির সত্যতা যাচাই করতে সারজিস আলমের ফেসবুক প্রোফাইল খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে ১০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পোস্টে তিনি ভারতের তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখেছেন, ‘এই লড়াই শুধু আপনাদের নয়। ঢাকা থেকে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে আমরা বন্ধু হিসেবে একসূত্রে বাঁধা।’

তবে সংহতি জানানোর ওই পোস্টে বা তাঁর ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টের অন্য কোনো পোস্টে আলোচিত বিতর্কিত মন্তব্যটির কোনো উল্লেখ নেই। এছাড়া কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা টেলিভিশন চ্যানেলেও সারজিস আলমের এমন কোনো বক্তব্যের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।