দূরদেশে একা বসে কেউ শুনছেন ‘এই দূর পরবাসে’। কারও প্রেমের সঙ্গী ‘অনন্যা’, কারও মন খারাপের গান ‘ভাঙা মন নিয়ে আর কেঁদো না’। আবার জীবনের কঠিন সময়ে কাউকে সাহস জোগাচ্ছে ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’। অনুভূতি আলাদা, গানের কণ্ঠও ভিন্ন। তবে কথাগুলো লিখেছেন একজনই—আসিফ ইকবাল। চার দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর লেখা গান এভাবে জড়িয়ে আছে শ্রোতার প্রেম, বিরহ, আনন্দ ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে।

আজ ১২ অক্টোবর জনপ্রিয় এই গীতিকারের জন্মদিন। এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি শেয়ার করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে আসছে তাঁর গানের কথা, একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি।

গানের বাইরেও আসিফ ইকবালের পরিচয় বহুমাত্রিক। করপোরেট পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, লেখক ও সংগঠক তিনি। একসময় নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছেন, ছিলেন ভালো বিতার্কিকও। তবে তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানুষের পরিচয় হয়েছে গানের সূত্রে। তাঁর লেখা গানের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অধিকাংশই চলচ্চিত্রের বাইরের গান। পরে ‘ও প্রিয়তমা’র মতো চলচ্চিত্রের গান তাঁকে নতুন করে পরিচিত করেছে আরেক প্রজন্মের দর্শক–শ্রোতার কাছে।

চট্টগ্রাম থেকে শুরু আসিফ ইকবালের গানের পথচলা শুরু চট্টগ্রামে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় তাঁর লেখা প্রথম গান ‘অনেক তো বলেছি’। সৈয়দ মনসুরের সুরে গানটি পরিবেশন করে বন্ধন শিল্পীগোষ্ঠী। ক্যাসেটে তাঁর লেখা প্রথম গান গেয়েছিলেন সামিনা চৌধুরী; সুর করেছিলেন আবিদ হোসেন। টেলিভিশন থেকে অডিও অ্যালবাম—এভাবেই ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় তাঁর কাজের পরিসর।

এই পথচলায় আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে পরিচয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০২৩ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ জানান, “চট্টগ্রামে তাঁদের দুই বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র পাঁচ মিনিটের। সৈয়দ মনসুর তাঁকে প্রথম বাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিল নিজের লেখা গানের ডায়েরি। সেখান থেকে বাচ্চু বেছে নেন ‘শুভ্র ভোরে’ গানটি। পরে সেটি জায়গা পায় তাঁর ‘ময়না’ অ্যালবামে।” বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন ও অনিশ্চয়তাকেও গানে ধরেছেন আসিফ। ‘কষ্ট’ অ্যালবামের ‘১০০টা স্বপ্ন’ নিয়ে একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গানটির পেছনে ছিল একজন গীতিকারের আশা ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প। গান লেখার পর কে গাইবেন, আদৌ কেউ গাইবেন কি না—এই অপেক্ষা ও সংশয় তাঁর চেনা। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছিল গানের বিষয়।

ক্রিকেটের মাঠেও ছিলেন নিয়মিতগানের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ক্রিকেট মাঠেও পরিচিত ছিলেন আসিফ ইকবাল। কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার সময়ই প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে নাম লেখান। টপ অর্ডারে ব্যাট করতেন, সঙ্গে স্পিন বোলিং। ২০২৩ সালে মুক্তকণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর ক্রিকেটজীবনের বিস্তারিত উঠে আসে। চট্টগ্রামের সিটি ক্লাবে ১৯৮৩ সাল থেকে টানা চার বছর খেলেছেন তিনি। তাঁর মেন্টর ছিলেন শফিকুল হক হীরা ও ইউসুফ গণি চৌধুরী। পরে ঢাকায় এসে খেলেছেন একাধিক ক্লাবে। ১৯৯৩ সালে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরুর পর পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তবে পরের এক যুগ করপোরেট লিগে খেলেছেন। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এখনো আছে। খেলা নিয়ে আলোচনা ও ধারাভাষ্যেও তাঁর সাবলীলতা নজর কাড়ে। তরুণ বয়সে বিতর্কেও ছিলেন দক্ষ। যুক্তি সাজানো, স্পষ্ট করে বলা এবং শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখার সেই অভ্যাস তাঁর বক্তৃতা ও আলাপচারিতায়ও ধরা পড়ে।

নানা কণ্ঠে তাঁর লেখাআসিফ ইকবালের গানের ভুবনে যেমন প্রেম ও বিরহ আছে, তেমনি আছে দূরদেশের নিঃসঙ্গতা, সম্পর্কের মায়া ও জীবনের সংগ্রাম। জেমসের প্রথম একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’র সব গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। জেমসের একক সংগীতজীবনের শুরুর এই অ্যালবাম তাই আসিফের গীতিকারজীবনেরও উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ‘অনন্যা’ ও ‘ওই দূর পাহাড়ে’র পাশাপাশি ওই অ্যালবামের ‘তুমি জান আমার জান’ ও ‘উঠতি রংবাজ’ গানেও রয়েছে তাঁর কথা। প্রেমের আবেগ থেকে তরুণদের অস্থির জীবন—একই অ্যালবামে ভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন তিনি। বাংলা ব্যান্ডসংগীতের আরও বেশ কিছু পরিচিত গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। আর্কের ‘জন্মভূমি’ অ্যালবামের ‘এই দূর পরবাসে’ গানটির সুর করেন আশিকুজ্জামান টুলু। প্রবাসের নিঃসঙ্গতা, বন্ধুদের আড্ডা আর ফেলে আসা শহরের স্মৃতি উঠে এসেছে গানের কথায়। রেনেসাঁর ‘তুমি কি আজ বন্ধু’ ও ‘বেঁচে থাকা নিয়ে যাদের যুদ্ধ’ও তাঁর লেখা। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে তাঁর কথায় শোনা গেছে ‘ভাঙা মন নিয়ে আর কেঁদো না’, ‘বহুদূর যেতে হবে’ ও ‘পরিত্যক্ত ডায়েরিটা ও ১০০টা স্বপ্ন’ গানেও তিনি ধরেছেন স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের অনুভূতি।

ব্যান্ডের বাইরেও নানা শিল্পীর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে তাঁর গান। কুমার বিশ্বজিতের ‘সুখ ছাড়া দুখ’, ‘তারা ভরা রাত’ ও ‘মেঘ রঙ মেয়ে’, নকীব খানের ‘স্বপ্ন জড়ানো’, নকীব খান ও সামিনা চৌধুরীর ‘তুমি এলে পায়ে পায়’ তাঁর লেখা। ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরীর গাওয়া ‘আমার সকল সুখে বুবু’তে উঠে এসেছে দুই বোনের সম্পর্কের উষ্ণতা। রাশেদের ‘ওই আকাশের তারায় তারায়’ও রয়েছে তাঁর গানের তালিকায়। পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও লিখেছেন নিয়মিত। প্রিন্স মাহমুদের সুরে মাহাদীর গাওয়া ‘সুনীল বরুণা’ রয়েছে ‘বন্দনা’ অ্যালবামে। মাহাদীর ‘মেঘ হয়ে কাঁদো বলে’ ও ‘অন্যরকম’, মাহাদী–এলিটার ‘হৃদয়ের ঝড়ে’, ‘নিঝুম রাত’ ও ‘ভোরের শিশির’ও তাঁর লেখা। আবার অদিতের সুরে শোয়েব ও এলিটার গাওয়া ‘ঘুম হয়ে আজ থাকতে যদি’ জায়গা পেয়েছে ‘চলো অন্তহীন’ অ্যালবামে। মিনারের ‘কী তোমার নাম’, ‘বাড়াবাড়ি’, ‘একটুখানি’ ও ‘বাবা–মায়ের জন্য’ গানগুলোর কথাও লিখেছেন আসিফ। ক্যাসেটের যুগ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে গান শোনার সময়—নানা প্রজন্মের শিল্পীর কণ্ঠে এভাবেই ছড়িয়ে আছে তাঁর লেখা।

একটি গানের দীর্ঘ পথচলা‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার জন্য লেখা ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’ আসিফ ইকবালের অন্যতম পরিচিত গান। নকীব খানের সুরে এতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ কয়েকজন শিল্পী। প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে গানটি পরে হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও ব্রাজিলের ফুটবলার কাসেমিরোর ছবির সঙ্গে গানটির পরিচিত কথাগুলো বাংলায় ব্যবহার করা হয়। সেই পোস্ট দেখে আবেগাপ্লুত হন আসিফ। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে, গানটি লেখার সময় এমন বিস্তারের কথা ভাবেননি। এই প্রাপ্তিকে তিনি দেখেছেন বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার অর্জন হিসেবে। গানটির নামেই লিখেছেন ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট—সাফল্যের খোলা কৌশল’ বই। আত্ম–উন্নয়ন ও মানসিক দক্ষতা নিয়ে লেখা বইটিতে যুক্ত হয়েছে তাঁর দীর্ঘ পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা। ইদানীং ফেসবুকেও নিয়মিত লিখছেন। গানের বাইরে গদ্যেও পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পরিসর তৈরি হয়েছে তাঁর।

চলচ্চিত্রে নতুন অধ্যায়দীর্ঘদিন অডিওর জন্য লিখলেও চলচ্চিত্রে আসিফ ইকবালের কাজ ছিল তুলনামূলক কম। ২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ ও ‘প্রহেলিকা’ তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। আকাশ সেনের সুরে বালাম ও কোনালের গাওয়া ‘ও প্রিয়তমা’ এবং ইমরানের সুরে ইমরান ও কোনালের গাওয়া ‘মেঘের নৌকা’ ব্যাপক সাড়া ফেলে।

পরের বছর আসে ‘রাজকুমার’ সিনেমার শিরোনাম গান। ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের ইউটিউব মিউজিক ট্রেন্ডিংয়ের প্রথম দশে একসঙ্গে ছিল তাঁর লেখা তিনটি গান—‘রাজকুমার’, ‘ভালোবাসি বলে যাও’ ও ‘ও প্রিয়তমা’। দীর্ঘ গীতিকারজীবনে চলচ্চিত্রের গান নিয়ে এই সাফল্য তাঁর কাছে নতুন করে কাজের আনন্দ এনে দিয়েছিল। তবে সাফল্যের ভাগ তিনি একা নিতে চাননি। মুক্তকণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন সম্মিলিত কাজের গুরুত্বের কথা। গীতিকার ও সুরকারের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং দৃশ্যায়নের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাজও একটি গানকে বড় পরিসরে পৌঁছে দেয়—‘প্রিয়তমা’ ও ‘প্রহেলিকা’র গানের সাফল্যে এই সহযোগিতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

করপোরেট জীবন ও সৃষ্টির অনুপ্রেরণাগান লেখার পাশাপাশি দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবন রয়েছে আসিফ ইকবালের। আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ইউনিলিভার, একটেল—বর্তমান রবি, এসিআই, মেঘনা গ্রুপ, বিটিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ব্যাংকিং, ভোগ্যপণ্য, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা ও আবাসন—ভিন্ন খাতে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, বিপণন ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়। এসিআই লজিস্টিকসের ‘স্বপ্ন’র বিকাশে যুক্ত ছিলেন তিনি। পেশাজীবনের এই ব্যস্ততার মধ্যেই লিখে গেছেন গান।

সেই অভিজ্ঞতা এখন অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাচিভ কনসাল্টিং’–এর মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। নেতৃত্বের দক্ষতা, দল পরিচালনা, বিক্রয় ও বিপণন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি—এসব বিষয় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাজের পরিসরে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বুঝে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কর্মসূচি সাজানো হয় বলে অ্যাচিভ কনসাল্টিংয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষকতাতেও যুক্ত আসিফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) খণ্ডকালীন শিক্ষক তিনি। ফলে কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী—দুই পক্ষের সঙ্গেই। শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মশালায় তাঁর আলোচনায় আসে নেতৃত্ব, চিন্তার অভ্যাস ও নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রসঙ্গ। এত কাজের অনুপ্রেরণা কোথায় পান? প্রশ্নের জবাবে আসিফ প্রথমেই বলেছিলেন মা–বাবার কথা, বিশেষ করে মায়ের কথা। সংগীতের প্রিয় মানুষদের উৎসাহও তাঁকে ভালো গান লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। নিজের কাজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, পাওয়ার চেয়ে দেওয়ার ভাবনাই তাঁকে বেশি তাড়িত করে। সেই ভাবনায় যেমন আছে নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তেমনি আছে সংগীতের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারের প্রাপ্য সম্মানী নিশ্চিত করার তাগিদ।

গানচিল ও স্রষ্টার অধিকার২০০৫ সালের শেষ দিকে নকীব খান, কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ ইকবাল, মাহমুদুর রহমান ও রেজা রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে গানচিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির দুই দশক পূর্তি উদ্‌যাপিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্য তিন প্রতিষ্ঠাতাকে সম্মাননা জানান আসিফ। গানচিল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারের প্রাপ্য রয়্যালটি নিশ্চিত করা। আনন্দ আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গান প্রচারিত হলেও স্রষ্টাদের সম্মানী না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। গান তৈরি ও প্রকাশের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাবনার ধারাবাহিকতায় রয়েছে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা।

গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের ২০২৪–২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন আসিফ ইকবাল। বাংলা গীতিকবিতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মানোন্নয়ন এবং গীতিকবিদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সংগঠনটি।

কাজের স্বীকৃতিসংগীত ও পেশাজীবনের নানা কাজের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন আসিফ ইকবাল। করপোরেট ক্ষেত্রে তাঁকে এশিয়ার শীর্ষ ৫০ ব্র্যান্ড লিডারের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে চিফ মার্কেটিং অফিসার এশিয়া। মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ড নিয়ে কাজের জন্য এই সম্মাননা পান তিনি। চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটরস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেওয়া হয় ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড—সোল অব ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স’। সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, শিক্ষা ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ক্রিকেটের মাঠ, বিতর্কের মঞ্চ, করপোরেট দায়িত্ব কিংবা লেখালেখি—জীবনের নানা অধ্যায়ে সক্রিয় থেকেছেন আসিফ ইকবাল। আর গান লিখে পৌঁছেছেন অগণিত মানুষের কাছে। চার দশকের পথ পেরিয়েও তাঁর কলমে নতুন গান আসছে, নতুন শিল্পীর কণ্ঠে পৌঁছাচ্ছে শ্রোতার কাছে। জন্মদিনে এই গীতিকবির প্রতি শুভেচ্ছা।