মোবাইল ফোনের রিচার্জ করা ব্যালান্স কিংবা ইন্টারনেটের ডেটা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকরা সাধারণত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। বর্তমানে এই সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও, সম্প্রতি দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর এই সীমা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রস্তাবনাটি কার্যকর হলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিতে পারবেন, যার বিপরীতে ১০ টাকা সেবা ফি এবং তার ওপর প্রযোজ্য কর প্রদান করতে হবে।

মোবাইল অপারেটরদের দাবি, ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের এই সীমা বৃদ্ধি করলে গ্রাহকরা অধিক মূল্যের ইন্টারনেট বা কলিং প্যাকেজগুলো সহজেই কিনতে পারবেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলতি মাসের পরবর্তী কমিশন সভায় এই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম। তিনি বলেন, “বর্তমানে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের যে সর্বোচ্চ সীমা রয়েছে সেটা দিয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্যাকেজ কেনা সম্ভব হয় না। যেমন কোনো প্যাকেজের দাম ৩১০ টাকা। কিন্তু গ্রাহক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিতে পারলে ওই টাকা দিয়ে প্যাকেজটি কেনা সম্ভব হবে না। এ সীমা ৫০০ টাকা হলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দামের প্যাকেজ কিনতে পারবেন।”

অন্যদিকে, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানো হলে গ্রাহকদের ঠিক কত টাকা ফি দিতে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরও জানান, চলতি মাসে পরবর্তী কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিটিআরসির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স প্রদান করে আসছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিতে কোনো সেবা ফি দিতে হয় না। তবে এর চেয়ে বেশি অঙ্কের ব্যালান্স নেওয়ার ক্ষেত্রে ২ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে শুরু করে প্রায় ৭ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়ে থাকে।