কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর। কিশোরীটি হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ময়নতদন্তের সময় সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সংগৃহীত নমুনা এবং ঘটনার সময় তাজমিনের পরিধেয় পোশাকগুলো এখন ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, "এসব আলামত ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।"
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমন তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেন। হত্যার পর ওই কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে তিনি নিজের অটোরিকশাটি ফেলে রেখে অন্য একটি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। সুমন মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রথমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছেন এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করেছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে পরিচয় হয় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর। ঘটনার আগে তাজমিন কক্সবাজারে গিয়ে রিয়াজের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। গত রোববার রাতে কক্সবাজার পুলিশ রাজুকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার ডিবি পুলিশের একটি দল কক্সবাজারে গেলে স্থানীয় পুলিশ রাজুকে ডিবি দলের কাছে হস্তান্তর করে।
উল্লেখ্য যে, গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাজমিন। পরদিন সকালে ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ ৩৫ বছর বয়সী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করে।