‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দার আঙিনায় পা রাখলেন রাদিফা নারমিন। তবে প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আগেই দ্বাদশ শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মোকাম্মেলের নির্দেশনায় দ্বিতীয় একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন। তার এই নতুন যাত্রা এবং অভিজ্ঞতার কথা জানালো মুক্তকণ্ঠের সাথে এক আলাপচারিতায়।

শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার প্রবল অনুরাগ। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মায়ের হাত ধরেই তিনি প্রথম থিয়েটারের সংস্পর্শে আসেন। আরশিনগরের একটি অভিনয় কর্মশালার মাধ্যমে তার এই যাত্রা শুরু হয়। রাদিফা নারমিন জানান, “অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মায়ের হাত ধরে প্রথম থিয়েটারের সঙ্গে পরিচয়। আরশিনগরের একটি অভিনয় কর্মশালার মাধ্যমে সেই যাত্রা শুরু। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথমবার ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে কাজ করি।”

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যের সাথেও তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। গত নয় বছর ধরে তিনি নিয়মিত নাচ চর্চা করছেন, যার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন তার বাবা-মা। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর অনুশীলন করেছেন তিনি। রাদিফা বলেন, “এ ছাড়া নয় বছর ধরে নিয়মিত নাচ করছি। মা–বাবাই নাচের সঙ্গে যুক্ত করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দিনের পর দিন, কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুশীলন করেছি। প্রথমবার মঞ্চে নাচার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে নাচই যেন আমাকে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে। ২০২৩ সালে কত্থক নৃত্যে ‘খ’ বিভাগে প্রথমবারের মতো গোল্ড মেডেল পাই।”

প্রায় ২৮ বছর আগে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমার আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’র সাথে। এই জনপ্রিয়তার চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “সত্যি বলতে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো মাইলফলক সিনেমাকে চাপ মনে করিনি। বরং দর্শক হঠাৎ বৃষ্টিকে যেভাবে দেখেছেন, যেভাবে অনুভব করেছেন, সেই জায়গাটা মাথায় রেখেই নতুন করে দীপাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। দীপা অতীতকে হুবহু ফিরিয়ে আনতে আসেনি। সময়ের সঙ্গে মানুষের আবেগ যেমন বদলায়, দীপা সেই পরিবর্তনেরই প্রতিচ্ছবি। সেই দুই সময়ের মধ্যে একটা সেতু তৈরি করার সুযোগ পাওয়া এবং অনেক মানুষের প্রিয় একটি গল্পে নিজের অনুভূতি যোগ করতে পারা—আমার কাছে দারুণ প্রাপ্তি।”

মঞ্চের অভিজ্ঞতা সিনেমার কাজে কতটা সহায়ক হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আরশিনগর থিয়েটারের সিদ্ধার্থ আর স্পর্ধার গোলমাথা আর চোখামাথা আমার অভিনয়ের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রেজা আরিফ স্যার, সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যার, মোহসিনা (আক্তার) ম্যাডাম ও আমার পরিচালকদের কাছ থেকে থিয়েটারের কৌশল, শরীরী অভিব্যক্তি ও মঞ্চে উপস্থিতির অনেক কিছু শিখেছি। থিয়েটার থেকে সিনেমায় আসা সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।”

এদিকে, তানভীর মোকাম্মেলের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ সিনেমায় ‘দুলি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন রাদিফা। এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “দুলির মতো একটা চরিত্রে কাজ করা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। চরিত্রটার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল তানভীর মোকাম্মেল স্যার এবং চিত্রলেখা গুহ ম্যামের গ্রুমিং সেশনের মাধ্যমে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এত জটিল একটা চরিত্র গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। দুলিকে সঠিকভাবে পর্দায় আনার জন্য আমাকে ঢাকা ছেড়ে ১০ দিন গ্রামীণ পরিবেশে থাকতে হয়েছিল। আজকের যুগে দাঁড়িয়ে শত বছর আগের একজন গ্রাম্য তরুণীর জীবনযাত্রা, তার মানসিক টানাপোড়েন আর ব্যক্তিত্ব অনুধাবন করাটা সহজ ছিল না।”