পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করা নালিশের বিষয়টি এখন আর কার্যকর নেই। আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে ওই সংস্থার ভুল ধারণা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে আজ রোববার সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন স্পিকার। উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর স্পিকার আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দেশে ফিরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “পতিত সরকার আওয়ামী লীগের নেতারা, তাঁদের মধ্যে ৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইপিইউতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও তদন্ত করার জন্য আইপিইউর একটি প্রতিনিধিদল ইতিপূর্বে ঢাকায় সফর করেছিল।
স্পিকার আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। আইপিইউ কর্তৃপক্ষও এই বিষয়ে নিজস্ব তদন্ত চালিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে আলাদা করে খুব বেশি কিছু ব্যাখ্যা করতে হয়নি। স্পিকারের মতে, আওয়ামী লীগ নেতাদের করা সব অভিযোগই ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি বলেন, “সম্মেলনে বাংলাদেশের কয়েকজন সংসদ সদস্য যোগ দিয়েছেন, যাঁরা নিজেরাই আয়নাঘরে ছিলেন। তাঁরা সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আওয়ামী লীগের আমলে অন্যান্য গুম–খুন, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে শিশু হত্যা—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।” স্পিকারের দাবি, সংসদ সদস্যদের এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও তথ্য উপস্থাপনের ফলে আইপিইউর ভুল ধারণা দূর হয়েছে এবং তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশ বর্তমানে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
স্পিকারের এই সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, সানজিদা ইসলাম (তুলি), সরওয়ার জামাল নিজাম, সুলতান মাহমুদ, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন, রোকেয়া বেগম এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।