গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ছেলে সেজে বিয়ে করার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে সালিসে বেত্রাঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই তরুণীকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। গত শুক্রবার দুপুরে নামাজের পর উপজেলার একটি নির্দিষ্ট গ্রামে এই সালিস আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসের কেন্দ্রবিন্দুতে শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে বেত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন ওই তরুণী। তাঁদের চারপাশে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন গোল হয়ে বসে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে তরুণীকে বেত্রাঘাত করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি এলাকায় জানাজানির পর ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তরুণীর বাবার অনুরোধে এই সালিস বসানো হয়। জানা গেছে, সালিস না করলে উত্তেজিত জনতা মব তৈরি করে বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারত।

বেত্রাঘাতের পর মেয়েটিকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সবার সামনে তওবা পড়ানো হয়। এসময় উপস্থিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, ভবিষ্যতে কেউ যদি এ ধরনের অনৈতিক বা খারাপ কাজ করেন, তবে তাকে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণী চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে পলাশবাড়ী উপজেলার ২০ বছর বয়সী আরেক তরুণীও কাজ করতেন। একসঙ্গে থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভুক্তভোগী তরুণী সম্প্রতি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন।

এই পুরো ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল শনিবার দুপুরে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান তরুণীর বাড়িতে যান। তরুণীর সাথে কথা বলে তিনি দাবি করেছেন যে, এই ঘটনায় ওই তরুণী কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেবেন না।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানার পর তিনি মেয়েকে শাসন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ে তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে। এরপর তিনি সমাজের মানুষের কাছে বিচার চাইলে শুক্রবার বাড়ির পাশে সালিস বসানো হয়। তবে সালিসের কথা শুনেই অন্য মেয়েটি তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

সালিসে বেত্রাঘাত করা ব্যক্তির নাম মাহফুজ আহমেদ। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওই এলাকারই বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, “বিষয়টি এলাকায় জানাজানির পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তরুণীর বাবার অনুরোধে সালিস করা হয়। না করলে উত্তেজিত জনতা মব তৈরি করে বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারত। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এমনটা করা হয়েছে।”

চেষ্টা করেও ভুক্তভোগী তরুণীর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনা জানাজানির পর গতকাল শনিবার দুপুরে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান তরুণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে মুক্তকণ্ঠ।

ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, “ওই তরুণী বলেছে তিনি অপরাধ করেছেন; এলাকার ভাইয়েরা তাঁকে শাসন করেছেন, তাঁর কোনো অভিযোগ নাই। তাই এ নিয়ে কোনো মামলা কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”