ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে লোক জড়ো করে থানার ফটকে অবস্থান ও হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম (রিপন)-এর বিরুদ্ধে। আজ রোববার রুহিয়া থানায় এই ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল নিয়ে থানায় এসে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে জহিরুল ইসলামের দাবি, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে স্থির থাকতে পারেননি, তাই সেখানে গিয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুহিয়া উপজেলার কুজিশহর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমিন আক্তার নামের এক নারীর ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাজমিন আক্তার রুহিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় কুজিশহর (ঘুরণগাছ) এলাকার মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর রাত দুইটার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামানকে (৪০) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে তাঁদের স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় ভিড় করতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা থানার মূল ফটকে অবস্থান নেন। সেই সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বাইরে থেকেই তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী ফটকে এসে উপস্থিত হন। ওসির ভাষ্যমতে, জহিরুল ইসলাম অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। জবাবে ওসি তাঁকে স্পষ্ট করে বলেন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং তাঁদের আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরবর্তীতে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার থানায় এসে পৌঁছান। তিনি ওসির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং এরপর পুলিশের সাথে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম এক পৃথক অভিযোগে জানান, জমি নিয়ে নাজমিন আক্তারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ বিরোধ চলছিল। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপন এই বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। রশিদুল আরও দাবি করেন, মামলা দায়ের করার আগেই পুলিশ তাঁর দুই ভাইকে টাকার বিনিময়ে গ্রেপ্তার করেছে। এই খবর পাওয়ার পর সকালে এলাকাবাসী থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানান।

তবে মামলার আগে গ্রেপ্তারের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন রুহিয়া থানার ওসি মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, একটি মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০–৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম থানায় এসে মব সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং তিনি পুলিশের সঙ্গে থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন উপনির্বাচন চলছে। দুপুরে দলের প্রার্থী এলাকায় এসেছিলেন। আর সেই রাতেই দলের কর্মীদের নামে মামলা হলো। সেই মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।’

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার জানান, থানায় লোকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন লোকজন থানার ফটকে অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে থানার বাইরে যেতে আশঙ্কা করছিল। পরে তিনি লোকজনকে বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান।

আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন এবং সেই দিন পর্যন্ত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।