আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ভিন্ন ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত মোট আটজন বাংলাদেশি বোলার হ্যাটট্রিক করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর মধ্যে তিনজন বোলার এই সাফল্য পেয়েছেন টেস্ট ম্যাচে এবং পাঁচজন করেছেন একদিনের আন্তর্জাতিক বা ওয়ানডে ম্যাচে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিকটি এসেছিল অলক কাপালির হাত ধরে। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে তিনি টানা তিনটি বলে সাব্বির আহমেদ, দানিশ কানেরিয়া ও উমর গুলকে আউট করে এই কীর্তি গড়েন।

অন্যদিকে, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন শাহাদাত হোসেন। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি মুপামবিসি, এলটন চিগম্বুরা ও প্রসপার উতসেয়াকে পর পর তিনটি বলে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান।

মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রাজ্জাকের হ্যাটট্রিকটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি দুটি আলাদা ওভার মিলিয়ে টানা তিন বলে প্রসপার উতসেয়া, রেমন্ড প্রাইস ও ক্রিস্টোফার এমপফুকে আউট করেছিলেন।

চট্টগ্রামের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। তার শিকার হয়েছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন, বিজে ওয়াটলিং ও ডগ ব্রেসওয়েল।

সোহাগ গাজীর এই সাফল্যের মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন রুবেল হোসেন। মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেলের বলে আউট হন কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জিমি নিশাম।

বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তাইজুল ইসলাম, যিনি ওয়ানডে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি পানিয়াঙ্গারা, জন নিয়াম্বু ও তেন্দাই চাতারাকে আউট করেছিলেন।

ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করা পঞ্চম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নাম লেখান তাসকিন আহমেদ। ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের শেষ ওভারে তিনি আসেলা গুনারত্নে, সুরাঙ্গা লাকমাল ও নুয়ান প্রদীপকে আউট করেন।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড হাসান মাহমুদের। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হাসান টানা তিন বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে আউট করে এই সাফল্য পান।