সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ভয়াবহ হামলার তীব্র ও সুস্পষ্ট নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রাণঘাতী হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ রোববার সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ শোকসন্তপ্ত পরিবার, বিশেষ করে নিহত বাংলাদেশি ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।” বেসামরিক জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাশতযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলে বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে।
এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সরকার এবং সে দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই হামলায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল শনিবার সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলায় মোট ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি গতকাল রিয়াদের বিমানবন্দরে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয়বারের মতো হামলা চালানো হলো। এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।