মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিনামূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভার আয়োজন করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত মুক্তকণ্ঠের কার্যালয়ে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এবারের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ এই আলোচনা সভা থেকে একটি বিশেষ পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

সাধারণত আমরা শৈশব থেকেই সন্তানদের এই শিক্ষা দিয়ে থাকি যে, তাদের যেন ‘ভালো বন্ধু’ বেছে নেওয়া হয় এবং ‘খারাপ বন্ধু’ থেকে দূরে থাকা হয়। তবে মানসিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের ট্যাগিং বা নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নটি সামনে আসে। এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিশু-কিশোর মনস্তত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে—‘ভালো বন্ধু’ বা ‘খারাপ বন্ধু’—এই দুটো শব্দ নৈতিকতার বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো কোনো বিষয় নয়। প্রতিটি শিশুই ভালো, প্রতিটি সন্তানই সুন্দর; জন্মগতভাবে কারো ভেতরে খারাপ কিছু থাকে না। আমরা যখন খুব সহজে সন্তানের কোনো বন্ধুকে ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করি, তখন আমরা অজান্তেই সেই শিশুটির ওপর এক ধরনের সামাজিক তকমা বা ‘ট্যাগ’ বসিয়ে দিই, যা তার মানসিক বিকাশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুচিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মূল মনোযোগ দেওয়া উচিত আচরণের বৈশিষ্ট্যের ওপর। বন্ধুদের মধ্যে যেসব গুণাবলি বা আচরণ ইতিবাচক এবং অনুকরণীয়, সেগুলো গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব আচরণ ক্ষতিকর, সেগুলো পরিহার করা প্রয়োজন। তবে কোনো বন্ধুর আচরণ অপছন্দ হলেই তাকে সরাসরি ‘বাতিল’ করা বা বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সঠিক সমাধান হতে পারে না। বরং অভিভাবক এবং সন্তান—উভয়েরই দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই বন্ধুকে তার ক্ষতিকর বা অনুপযোগী আচরণ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।