১৯৫৭ সালে মহাকাশ যুগের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শত শত মানুষ পাড়ি জমিয়েছেন মহাকাশে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, মহাকাশ যুগের সূচনা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২টি দেশের ৭৪৬ জন মানুষ মহাকাশে ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে পেশাদার নভোচারীদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যাত্রায় অংশ নেওয়া পর্যটকেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত কার্মান লাইনকে সীমান্ত ধরে মহাকাশে ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। মহাকাশে ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬৯ জনই যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৩৮ জন এবং চীনের ২৯ জন। মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো পুরুষদের তুলনায় বেশ কম। এখন পর্যন্ত মহাকাশে ভ্রমণ করেছেন ১১২ জন নারী, যা মোট সংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশ।

১৯৬৩ সালের জুন মাসে সোভিয়েত নভোচারী ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেছিলেন। এর প্রায় ২০ বছর পর মার্কিন নভোচারী স্যালি রাইড ১৯৮৩ সালে মহাকাশে পা রাখেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিক মহাকাশ পর্যটনের কারণে নারী যাত্রীদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ সালের পর থেকে যত নারী মহাকাশে ভ্রমণ করেছেন, তাঁদের অর্ধেকের বেশি মানুষ ব্লু অরিজিনের সাব–অরবিটাল রকেটে বাণিজ্যিক যাত্রী বা অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

মহাকাশযাত্রীদের বয়সের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যক্তিরই প্রথম মহাকাশ অভিযানের সময় বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। এই বয়সের ব্যক্তিরাই মোট যাত্রীদের ৮৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছেন। বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এই বয়সের পরিসর আরও প্রসারিত হয়েছে। ২০২১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করে সর্বকনিষ্ঠ যাত্রীর রেকর্ড গড়েন অলিভার ডেমেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালে ৯০ বছর ৮ মাস বয়সে মহাকাশে গিয়ে সবচেয়ে প্রবীণ নভোচারীর খেতাব অর্জন করেন এড ডোয়াইট।

মহাকাশ অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। মহাকাশ প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর ও বাণিজ্যিক প্রসারের মাধ্যমে মানুষের মহাশূন্যে যাওয়ার সুযোগ আগামী দিনে আরও অনেক বেড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা