দলীয় পরিচয় বা অঞ্চল বিবেচনায় নয়, সরকার দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, কোনো একটি উপজেলার জন্য এমন সুবিধা দেওয়া উচিত হবে না, যা পাশের অন্য উপজেলার মানুষ পাবে না।

আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে এক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ কথা বলেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক এ সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তারা কেবল চাকরিজীবী নন, তাঁরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। সরকারের সব কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে আবদুল মঈন খান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে একবারে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার জরুরি। সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার ব্যয় সাশ্রয় ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।

দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করতে হবে। সমিতির নিবন্ধনপ্রক্রিয়াও সহজ করা প্রয়োজন, যাতে গ্রামের মানুষ সহজেই সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে সাময়িক বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তিনি জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতিমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।