ঘরের মাঠে প্রথমার্ধজুড়ে আক্রমণে নিষ্প্রভ ছিল আর্সেনাল। বিরতির পর গোল হজম করে আরও চাপে পড়ে মিকেল আর্তেতার দল। তবে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় নেয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। রিকার্দো কালাফিওরির গোলে সমতায় ফেরার পর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জয়সূচক গোল করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এর ফলে লিডস ইউনাইটেডের অপরাজিত যাত্রা থামিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের mücadeলায় নিজেদের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিডসকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে আর্সেনাল। স্বাগতিক দলের হয়ে একটি করে গোল করেন কালাফিওরি ও গিমারায়েস। অন্যদিকে লিডসের একমাত্র গোলটি এসেছে জেমস জাস্টিনের করা শটে।

আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছিল আর্সেনাল। বিপরীতে, মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত ছিল লিডস। তাই ঘরের মাঠে জয়লাভ করে লিগে আত্মবিশ্বাসের সাথে ফেরার লক্ষ্য ছিল আর্তেতার দলের সামনে।

তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামতো হয়নি আর্সেনালের। প্রথমার্ধে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লিডস।

২১ মিনিটে ননি মাদুয়েকের ক্রসে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাই হাভার্টজ। কিন্তু খুব কাছ থেকে তার হেড সরাসরি চলে যায় লিডস গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডের হাতে।

২৪ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল গুদমুন্দসনের ক্রসে আনতন স্টাখের ভলি সতীর্থ জেডেন বোগলের গায়ে লেগে আটকে যায়। তিন মিনিট পর বোগলের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া। বিরতির ঠিক আগে গুদমুন্দসনের শটও তিনি সফলভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় লিডস। তার ফল মেলে ৫৫ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে গুদমুন্দসনের নিচু পাসে জোরালো শটে বল জালে পাঠান জাস্টিন। এই গোলের ফলে পিছিয়ে পড়ে ঘরের মাঠে হারের শঙ্কায় পড়ে যায় আর্সেনাল।

তবে সাত মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মাদুয়েকের ক্রসে বেন হোয়াইটের হেডের পর বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান কালাফিওরি।

সমতায় ফেরার পরপরই তিনটি কৌশলগত পরিবর্তন আনেন আর্তেতা। মাঠে নামান ব্রুনো গিমারায়েস, ইউরিয়েন টিম্বার ও ভিক্টর ইয়োকেরেসকে। আর এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

৭০ মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে জয়সূচক গোল করেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। বুকায়ো সাকা ও মার্টিন ওডেগার্ডের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণে ডেকলান রাইসের ব্যাকহিল পাস পান গিমারায়েস। বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি।

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্সেনাল। তবে ওডেগার্ড ও সাকার প্রচেষ্টাগুলো কাজে আসেনি। অন্যদিকে সমতায় ফেরার মতো আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি লিডস।

এই জয়ের ফলে ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আর্সেনাল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর প্রথম পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া লিডস ৯ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে পঞ্চম স্থানে।