পটুয়াখালীতে মহাসড়কের পাশ থেকে আব্বাস সিকদার (১৯) নামের এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প (ইপিজেড)–সংলগ্ন মহাসড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, ফুটবল খেলা নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত আব্বাস সিকদার সদর উপজেলার নির্মাণাধীন ইপিজেড–সংলগ্ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম সিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে ইপিজেড এলাকার বালুর মাঠে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। খেলা শেষ হওয়ার পর আব্বাসের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার আবারও আব্বাসের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
আব্বাসের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় বিরোধী পক্ষের লোকজন তাঁর ভাগনে সাব্বির হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে আব্বাসের সঙ্গে সাব্বিরের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাব্বির ও তাঁর সহযোগীরা আব্বাসকে মারধর করেন এবং তাঁর মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করেন।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, পরে তাঁর ছেলে যখন বিরোধী পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করতে বাড়ি থেকে বের হন, তখন তিনি তাঁকে বাধা দেন। এরপর তিনি ছেলেকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বন্ধু রুবেলের সঙ্গে পাশের মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামে যান আব্বাস। সেখানে একটি বাড়িতে তাঁরা রাত কাটান। তবে বিরোধী পক্ষের লোকজন তাঁদের অবস্থানের খবর পেয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। এরপর থেকে তিনি তাঁর ছেলেকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইপিজেড প্রকল্প এলাকার মহাসড়কের পাশে তিনি তাঁর ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর থেকে সাব্বির হোসেন এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আব্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেডিক্যাল প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আব্বাসের বাবা বাদী হয়ে মামলা করবেন।”