মাহফিলের আড়ালে কেউ যদি সরকারের বিরোধিতা করে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যে এই কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো মাহফিলের বিরুদ্ধে নই। মাহফিলকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু মাহফিলের নামে কেউ সরকারের বিরোধিতা বা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এ বিষয়ে ওলামা দলের প্রতিটি নেতাকর্মাকে অত্যন্ত সোচ্চার ও সতর্ক থাকতে হবে।

ধর্মীয় মাহফিলগুলোর প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি মাহফিলে নিরপেক্ষ বক্তা আনা উচিত, যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা না বলে কোরআন-হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের চেষ্টা করবেন। কোনো দলের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাহফিলে বক্তা আনার প্রয়োজন নেই। বরং ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

ফরহাদ হোসেন আজাদ আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন আলেম ও বক্তাদের খুঁজে বের করতে হবে যারা কোরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে সক্ষম। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, “এমন আলেম ও বক্তা খুঁজে বের করুন, যারা কোরআন-হাদিসের আলোকে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাদের দিয়ে মাহফিল আয়োজন করলে আমরা স্বাগত জানাব। সেই মাহফিলে আমরা প্রধান অতিথি থাকব। মাহফিল সম্পন্ন করতে অর্থনৈতিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, বিগত সময়ে মসজিদগুলোকে দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদকে আল্লাহর ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। ইসলাম কোনো দলের নয়, ইসলাম কোনো ব্যক্তির নয়, ইসলাম আল্লাহর।”

পঞ্চগড় জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুফতি মুহিবুরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব এম এ মজিদ এবং পঞ্চগড় জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজলসহ আরও অনেকে।