চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ছররা গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মারধরে আহত হয়েছে ওই পরিবারের দুটি শিশু। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুসার বাপের টিলা এলাকার জামির আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

পুলিশ জানায়, মুখোশ পরে এসে সন্ত্রাসীরা ঘরটিতে হামলা চালায়। ছররা গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত তিনজন হলেন মো. গোলাপ (৪৫), তাঁর ছেলে মো. আসিফ (১৪) ও বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দ (৫৫)। তাঁদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। মারধর করা হয়েছে মো. গোলাপের তিন বছর বয়সী শিশুসন্তান মোহাম্মদ এবং পাঁচ বছর বয়সী মুহাম্মদ রাকিবকেও।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, মুখোশ পরে এলেও হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত একটি সন্ত্রাসী দলের সদস্য। তারা গভীর রাতে সশস্ত্র অবস্থায় ঘরে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তবে টাকা না পেয়ে ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় ঘরের তিন সদস্যকে ছররা গুলিতে আহত করে সন্ত্রাসীরা। একই সঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুঁপিয়েও ওই তিনজনকে আহত করা হয়। পরে ঘরে থাকা বেশ কিছু নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্বর্ণালংকার লুট করে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আহত মো. গোলাপের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামীর ডানহাতে ছররা গুলি লেগেছে। এর মধ্যেই ওই হাতে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। তাঁর ছেলে আসিফেরও বাঁ হাতের কবজিতে জখম করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীদের ভয়ে হামলার ঘটনাটি সকালে পুলিশকে জানায়নি পরিবারটি। পরে বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করায় আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ মামলা করতে পারেনি।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, কী কারণে এই হামলার ঘটনা, তা স্পষ্ট নয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা থানায় আসতে পারেননি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, তিনজনকে ছররা গুলির পাশাপাশি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।