জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়পুরহাট সদর উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কালাই উপজেলা দল। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচটি দেখতে বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমীর ভিড় জমেছিল। বিশেষ করে কালাই উপজেলা দলকে সমর্থন জানাতে ১৪টি বাসে করে ফুটবলভক্তরা স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনের তুলনায় ফাইনালের দিনে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জায়গা না পাওয়ায় অনেক দর্শক স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার বাড়ির ছাদ ও চিলেকোঠায় বসে খেলা উপভোগ করেন।
খেলার নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই একের পর এক আক্রমণ চালায়, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে সক্ষম হয়নি। ফলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে কালাই উপজেলা দল চারটি গোল করতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে সদর উপজেলা দল করে তিনটি গোল। এক গোলের এই ব্যবধানে জয়লাভ করে কালাই উপজেলা দল।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, দর্শকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোট ১৪টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দর্শকেরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে এই ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করেছেন।
দলের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন কালাইয়ের তালুকদারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আইনজীবী নাফিউজ্জামান তালুকদার। দর্শকদের যাতায়াতের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচটি বাসের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি খেলোয়াড় এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ২০০টি জার্সি উপহার দেন তিনি। দলের জয়ের পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি!’
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা গৌতম সরকার জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে টুর্নামেন্টটি শুরু হয়েছিল। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলা এবং তিনটি পৌরসভার মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিদিন একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এবং গতকাল ফাইনালের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি সমাপ্ত হয়।
গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এই টুর্নামেন্টের আটটি দলের খেলাই দেখেছেন। তার মতে, সব দলই মোটামুটি ভালো খেলেছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্মের মুঠোফোনের আসক্তি কমাতে তা সহায়ক হবে।
ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। যুবসমাজের কল্যাণে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা জরুরি। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
খেলা শেষে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান চ্যাম্পিয়ন কালাই এবং রানার্সআপ জয়পুরহাট সদর উপজেলা দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব গোলজার হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া এবং পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম।