বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, শুক্রবার দুপুরে এই চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁদের মারধর করা হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটায় অবস্থিত ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। জানা গেছে, প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, কুকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ও আমতলী উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ফাহাদ ফকিরসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ইউনুস আলী খাঁন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে ধরে নিয়ে যান এবং আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। এছাড়া জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধরে নিয়ে যান বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

আসিফের পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে মারধর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে ছাত্রদের তুলে নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি ছিল, তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়েছে। এখন বিএনপির পার্টি অফিসে আছে। তবে শুনেছি, তাদের থানায় দেওয়া হবে।’

ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া এই বিষয়ে বলেন, ‘বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, মাহবুব আলম ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতা–কর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে তুলে নিয়েছেন। তাঁদের থানায় না দিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে বা তাঁদের সঙ্গে কী করা হয়েছে, তা আমি জানি না।’

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। তিনি বলেন, “দলীয় নেতা–কর্মীরা তাদের এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।