পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপ দেখালেন সাহিবজাদা ফারহান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। ফারহানের ৮৯ রানের ইনিংস এবং মাজ সাদাকাতের ফিফটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, লাহিরু উদারার ৯১ রানের দুর্দান্ত লড়াই বৃথা গেল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সফরকারী শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা এবং ৮ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
সালমান আলী আগার পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পাওয়া ফারহান শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। ওপেনার ফখর জামানকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৩১ বলে ৫৪ রান যোগ করেন তিনি। ১৩ বলে চারটি চার মেরে ২১ রান করে ফখর সাজঘরে ফিরলেও রানের গতি বজায় রাখেন অধিনায়ক ফারহান।
তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ফারহানকে দারুণ সহায়তা করেন মাজ সাদাকাত। ইনিংসের শুরুতেই দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আক্রমণাত্মক মেজাজের জানান দেন সাদাকাত। এই দুই ব্যাটসম্যানের দাপটে পাওয়ার প্লে-র প্রথম ৬ ওভারেই ১ উইকেটে ৭০ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান।
মাত্র ৩৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ফারহান। অন্যদিকে ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সাদাকাত। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ৫২ বলে মোট ৯২ রান যোগ করেন। এরপর ৫০ রান করে মাঠ ছাড়েন সাদাকাত।
পরবর্তীতে হাসান নওয়াজ ও সাইম আইয়ুব দ্রুত আউট হয়ে গেলেও পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা খুব একটা কমে যায়নি, কারণ এক প্রান্তে তখনো অবিচল ছিলেন ফারহান। ১৮তম ওভারে নুয়ান তুষারাকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি।
তবে ওই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান পাকিস্তান অধিনায়ক। ৫৩ বলে ১০টি চার ও চারটি ছক্কায় ৮৯ রান করেন ফারহান। তার বিদায়বেলায় জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান।
পরের ওভারে শাদাব খান শূন্য রানে আউট হয়ে গেলেও পঞ্চম বলে একটি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন খাজা নাফে। ৭ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শ্রীলঙ্কার হয়ে ইশান মালিঙ্গা ও তিকশানা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। দলীয় মাত্র ৯ রানে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস এবং ১৮ রানে কামিল মিশারাকে হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। তবে এক প্রান্ত ধরে রেখে পাল্টা আক্রমণ চালান ওপেনার লাহিরু উদারা।
কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৬০ রান যোগ করেন উদারা। কামিন্দু ১৮ বলে ২৩ রান করে আউট হলে দাসুন শানাকাকে নিয়ে আরও ৫৭ রানের জুটি গড়েন তিনি।
মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করা উদারা শেষ পর্যন্ত শতকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। তবে ১৯তম ওভারের শেষ বলে নাসিম শাহর বলে আউট হয়ে সেঞ্চুরি করার সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি। ৫৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯১ রান করেন উদারা।
শ্রীলঙ্কার অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান ছিল কামিন্দুর ২৩ রান। পাকিস্তানের হয়ে নাসিম শাহ ৩৬ রানে ৩ উইকেট এবং মোহাম্মদ ইমরান রানধাওয়া ২১ রানে ২ উইকেট নেন।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক পাকিস্তান। আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।