কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফোটানো আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের অভিভাবকেরা। অভিযোগ উঠেছে, আতশবাজির বিকট শব্দে গভীর ঘুমে থাকা শিশুরা হঠাৎ আঁতকে উঠে কেঁদে ফেলে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে ‘ইন্টার্ন ডক্টরস বিদায় সংবর্ধনা (কুম-২৯ ব্যাচ)’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই আতশবাজি ফোটানো হয় বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অসুস্থ শিশুদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য একটি শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতায় আতশবাজির তীব্র শব্দে শিশুদের ঘুম ও বিশ্রামে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর ফলে সন্তানদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে চরম উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবকেরা।
লাকসাম থেকে আসা মনোয়ারা নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান ও উদযাপন আনন্দের বিষয়। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। বিশেষ করে শিশু বিভাগের রোগীদের জন্য শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের অনুষ্ঠান থেকে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হয়ে যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না হয়, তা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”
অন্যদিকে, তাহমিনা নামের এক শিশুর মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে কীভাবে এভাবে বাজি ফোটানো হয়। আমরা এখানে এসেছি সন্তানকে সুস্থ করতে, আর এখন আমার বাচ্চা আতঙ্কে কাঁদছে। তারা ডাক্তার নাকি ডাকাত। এগুলো এখনই বন্ধ না করলে আমরা সরকারকে জানাব। আমরা তারেক রহমানের দলের লোক।”
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ জানান, শব্দের তীব্রতা এবং এর ফলে রোগীদের ওপর প্রভাবের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ বিষয়ে তিনি কলেজের অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করছেন বলে জানান।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এম এম হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের আতশবাজি আর ফোটানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”