ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি মনে করেন, এই বৈশ্বিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিশ্বরাজনীতি এখন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকটও। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সঠিকভাবে চলতে না পারলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপদের মুখে পড়তে পারে।”
দেশের অর্থনৈতিক গতি সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই ইরান যুদ্ধের ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে হবে।”
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৭ বছরের শাসনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের এখন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে দেশ গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু ছাত্রনেতা সরকারে যোগ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। তাঁর মতে, তাদের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালিত বিএনপির আন্দোলনের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী।
দেশের বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে আহ্বান জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “সড়ক অবরোধ ও মবের মতো কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”