মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে চিত্রকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জ্বল দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি তার প্রতিবেশী চাচা হওয়ায় তিনি কেবল তাকে দেখতে তদন্তকেন্দ্রে গিয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সিরাজদিখান থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সুলতান বেপারী (৪৮)। তিনি সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে সুলতান বেপারীকে আটক করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য শহীদুল ইসলাম উজ্জ্বলের তদবির করার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সত্য নয়। সুলতান বেপারী আমার প্রতিবেশী চাচা। তাকে দেখতে আমি শেখরনগর তদন্তকেন্দ্রে গিয়েছিলাম।”

শেখরনগর তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) সঞ্জিত কুমার ঘোষ নিশ্চিত করেছেন যে, সুলতান বেপারী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য এবং চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী স্পষ্ট ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কোনো নেতাকর্মী যদি তাদের ছাড়াতে তদবির করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”