অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন—উৎসবের এই পাঁচ দিন ছোট্ট সোনামণিদের সাজপোশাকে পূর্ণতা আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড অনুযায়ী মেয়েশিশুদের পোশাকের চলতি ধারাটি কেমন, তা জানতে আমরা ঘুরে দেখলাম বিভিন্ন পোশাকের দোকান।
শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে এখন প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক কাটছাঁটের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রঙ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌমিক দাস জানান, “শিশুদের পোশাককে উৎসবমুখর করতে নেপালি উড কার্ভিং ও দুর্গার প্রতীকী অবয়ব এবারের একটি থিম।” এর পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়া রাখতে ফোলানো হাতার ফ্রক, আঙরাখা কাটের কামিজ কিংবা পেপলাম কামিজের সঙ্গে ঢোলা সালোয়ারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শিশু পরিবহনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডিজাইনার ফায়েকা জাবীন সিদ্দিকা বলেন, “নবজাতক থেকে শুরু করে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য সামনে খোলা ফ্রক সবচেয়ে উপযোগী। এটি পরাতে ও খুলতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।” তিনি আরও জানান, দুই থেকে সাত বছর বয়সী মেয়েশিশুদের জন্য তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে খাদি বা জামদানি কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ ও লেহেঙ্গা। এছাড়া মণ্ডপের ভিড়ে সারাদিন ছোটাছুটি করার জন্য বক্স প্লিটেড স্কার্ট অথবা হারেম প্যান্টের সঙ্গে স্ক্রিনপ্রিন্টের বাংলা টাইপোগ্রাফি করা সুতি টি-শার্টগুলো শিশুদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
হ্যালো বিউটিফুল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বারাতি জাহান জানান, পূজার সময়ে মেয়েশিশুদের জন্য বেশি ঘের দেওয়া ঘাগরা বা স্কার্ট বেশ আরামদায়ক। অনেক শিশু বড়দের মতো শাড়ি পরার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের জন্য এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কুঁচি ও আঁচল সেলাই করা ‘রেডি শাড়ি’। এর ফলে শাড়ি পরার শখ মিটে যাওয়ার পাশাপাশি আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। এছাড়া উৎসবের বিশেষ মুহূর্তে মা ও মেয়ে একই রঙের ম্যাচিং পোশাকে সাজতে পারেন।
শরতের আকাশ মেঘ-রোদের খেলায় মাতলেও ভ্যাপসা গরমের প্রভাব থাকে। এই বিষয়ে ফায়েকা জাবীন সিদ্দিকা বলেন, “উৎসব হলেও শিশুদের কাপড়ে সুতিকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।” দিনের বেলা ঘুরে বেড়ানোর জন্য সাধারণ সুতি, স্লাব কটন, জ্যাকার্ড কটন ও ভিসকস কাপড়ই সবচেয়ে উপযোগী। তবে সন্ধ্যার জমকালো অনুষ্ঠান বা প্রতিমা দর্শনের জন্য সুতির ওপর হালকা সিল্ক, অরগাঞ্জার কিংবা জর্জেটের মতো চকচকে ফেব্রিক বেছে নেওয়া যেতে পারে।
রঙের ক্ষেত্রে লাল, সাদা, মেরুন, সোনালি, হলুদ কিংবা ম্যাজেন্টার মতো সনাতনী রঙের আবেদন সবসময়ই থাকে। তবে একঘেয়েমি কাটাতে এবার নতুন রঙের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। বারাতি জাহান জানান, “পুরোপুরি লাল-সাদার বাইরে গিয়ে অফ হোয়াইটের সঙ্গে মেরুন বা বাঙ্গি রঙের সঙ্গে মেরুনের বৈপরীত্য কিংবা প্যাস্টেল শেডের গোলাপি ও কমলার মিশেল এবার দারুণ সাড়া ফেলছে।” এছাড়া নীল, আকাশি কিংবা সবুজের ছোঁয়া শিশুদের সাজে এক ধরনের স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে।
মূল্যের কথা বললে, শোরুমগুলোতে আরামদায়ক টি-শার্ট বা সুতি ফ্রকের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। শিশুদের রেডি শাড়ির বাজেট ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা যেতে পারে। সালোয়ার-কামিজের দাম সাধারণত ১ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। অন্যদিকে, খাদি বা জামদানির তৈরি বিশেষ পোশাক কিংবা জমকালো লেহেঙ্গার দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।