আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ এবং যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি অনুরোধ করেছেন যেন শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচনে জয়ী করা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত এক জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিলে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কোনো সরকারই শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের উচিত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
অটোরিকশাচালকদের বিষয়ে কথা বলে তিনি দাবি করেন, তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। তার মতে, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষা করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন জরুরি। তিনি আরও মনে করেন, শ্রমিকদের মুক্তি, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন গতানুগতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতো নয়। অন্যত্র চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন শ্রমিকদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলান মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে সরকারের প্রতি মানুষের তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।