রাজধানীর ভাটারার সাঈদনগর এলাকায় দুটি ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে নিচ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে। উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুবতাসির ফুয়াদ নাঈম (২৩)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
মুবতাসিরের রুমমেট মাজহারুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ইয়াসিন আরাফাত জানান, মুবতাসির ও আরও কয়েকজন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে মেসে বসবাস করতেন। ওই ভবনের পাশেই একই মালিকের মালিকানাধীন আরেকটি ভবন অবস্থিত। দুটি ভবনের মাঝখানে সংযোগ থাকায় এক ভবন থেকে অন্য ভবনের ফ্ল্যাটে যাতায়াত করা সম্ভব হয়। তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী, সকালে তাঁরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ নিচে প্রচণ্ড হইচই শুনে তাঁদের ঘুম ভাঙে। এরপর তাঁরা লক্ষ্য করেন, দুই ভবনের মাঝখানের নিচে মুবতাসির গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ফরাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুবতাসিরের সঙ্গে থাকা মেসের বাসিন্দারা জানান, ওই ভবনের কেয়ারটেকারের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, মুবতাসির নিজের মেসের ভবন থেকে পাশের ভবনে গিয়ে কাউকে ডাকতে গিয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা, সেই সময় পাশের ভবনের বারান্দা থেকে তিনি কোনোভাবে নিচে পড়ে যান।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “মুবতাসিরের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।”
মুবতাসিরের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে। তাঁর বাবা মোস্তাফিজুর রহমান একজন শিক্ষক।