বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার দিক থেকে ক্রিকেট ও ফুটবলের পর হকির অবস্থান অন্যতম। তবে এই দুই খেলার সাথে হকির একটি বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় ঘরোয়া লিগের আয়োজনে। ক্রিকেট ও ফুটবলে নিয়মিত লিগ অনুষ্ঠিত হলেও হকিতে সেই ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে ফিরছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার হকি লিগ এবং প্রথম বিভাগ হকি লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি মৌসুমের প্রথম বিভাগ হকি লিগ।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের লিগ কমিটির সম্পাদক ইউসুফ আলী আজ ফেডারেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ক্লাবগুলোর দাবির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি দলকে অনুদান হিসেবে আড়াই লাখ টাকা প্রদান করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই লিগ। টুর্নামেন্টের সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে।

চলতি মৌসুমের এই লিগে মোট ১১টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলগুলো হলো—ওয়ারী ক্লাব, ফরাশগঞ্জ এসসি, হকি ঢাকা ইউনাইটেড, শিশু-কিশোর সংঘ, পিডব্লিউডি এসসি, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, কম্বাইন্ড এসসি, রায়েরবাজার এসসি, মুক্ত বিহঙ্গ তরুণ সংঘ, ঢাকা ইয়াং স্টার ও ব্যাচেলর এসসি।

আগের আসরের সাথে এবারের লিগের একটি বড় পরিবর্তন হলো বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ। ২০২৩ সালের আসরে প্রতিটি ক্লাব দুজন করে বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তবে এবার প্রথম বিভাগ হকিতে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়া হবে না। স্থানীয় খেলোয়াড়দের খেলার অধিক সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান লিগ কমিটির সম্পাদক।

তবে লিগ মাঠে ফিরলেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। হকির অতীত ইতিহাসই এই আশঙ্কার বড় কারণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৬ বছরে প্রিমিয়ার হকি লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ১৩ বার। একই সময়ে প্রথম বিভাগ লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২ বার। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র পাঁচবার।