অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে যুক্তরাজ্য সরকার এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে জানিয়েছে, ভবনটি পুরোপুরি ‘বন্ধ করা হবে না’ এবং এটি ‘যুক্তরাজ্যের মিশন’ হিসেবে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘আমরা চাইনি, পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াক।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কনসাল জেনারেলসহ মোট ২০ জন কূটনীতিক ইসরায়েল ত্যাগ করবেন। তবে ভবনটিতে সাত সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স থেকে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে তাদের কাজের পরিধি হবে ‘খুবই সীমিত’।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু কর্মীকে ‘সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছিল যে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে। সে সময় ইসরায়েল সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তারা কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।
উল্লেখ্য, ১৮৩৮ সালে জেরুজালেমে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কনস্যুলেটের মাধ্যমেই পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই বসতিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ।
আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালিয়েছিল যাতে ইসরায়েল কনস্যুলেটটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। উল্লেখ্য যে, তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের প্রধান দূতাবাস থেকে এই কনস্যুলেটটি আলাদা। তেল আবিবের দূতাবাসটিই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মূল কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে বলে জানানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল, তার জবাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো এখন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিডিয়ন সার লিখেছেন, ‘জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। সে অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন ছিল। আজ সকালেও কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা উড়তে দেখা গেছে এবং কয়েকজন কর্মীকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার আরও জানান, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে সমঝোতা করা সম্ভব হয়েছে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে কনসাল জেনারেল এবং ২০ জন কূটনীতিক তাদের দায়িত্ব শেষ করে দেশ ছাড়বেন। তবে ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে সীমিত পরিসরে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সার বলেন, ‘ভবনটিতে খুবই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র সাতজন কূটনীতিকের একটি টাস্কফোর্সকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।’