আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় বা পরে কাজের সুযোগ দেওয়া ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)’ কর্মসূচিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে গতকাল বুধবার এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত নিয়মে কোনো শিক্ষার্থী ওপিটিতে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ ফি দিতে হবে। সাধারণত শিক্ষার্থীরা এক বছর কাজের সুযোগ পান। তবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত দুই বছর কাজ করতে পারেন। প্রতিটি নতুন আবেদনের জন্য ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী প্রতিটি নবায়নের জন্য ৩০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করার আগে ৬০ দিন জনমত নেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, ফলে নিয়মটি কার্যকর হতে সময় লাগতে পারে।

ডিএইচএস বলেছে, ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতেই এ ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। ওপিটিকে ‘সস্তা বিদেশি শ্রমিকের পাইপলাইন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তবে শিক্ষা ও অভিবাসন খাতের প্রতিনিধিরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা নাফসার প্রধান নির্বাহী ফান্তা আও বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আকাঙ্ক্ষাকে তাড়িয়ে দিলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মশক্তির বিকাশ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আরেকটি কর্মসূচি ‘কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ নিয়েও কড়াকড়ি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যতামূলক অংশ হলেই কেবল এ কর্মসূচি অনুমোদন করা উচিত। গত সোমবার এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।