নোয়াখালীর সেনবাগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পর মো. মারুফ (২১) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মারুফ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. রিপনের ছেলে। ওই এলাকার হাজীবাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে মারুফ নিজের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন। এরপর তিনি প্রয়োজনীয় জামাকাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে গুছিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তবে এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাননি পরিবারের সদস্যরা। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

বুধবার রাতে বাড়ির পাশের ধানখেত সংলগ্ন পুকুরপাড়ে মারুফের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সেনবাগ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ এবং জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, পুকুরপাড় ও ধানখেতের মাঝামাঝি স্থানে গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় তরুণের মরদেহ পড়ে আছে। গামছার একাংশ পুকুরপাড়ের একটি গাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং অপর অংশ গলায় পেঁচানো ছিল। গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানখেতে পড়ে যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

ওসি আরও জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারুফ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”