জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা নারীদের প্রশিক্ষণের কথা বলে বা কেবল দেখা করার কথা বলে ডেকে এনেছেন এবং কৌশলে তাদের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয়। এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, তাদের প্রশিক্ষণের কথা বলে কুষ্টিয়া পৌরসভায় নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে পৌঁছে তারা যখন বিক্ষোভ মিছিল দেখতে পান, তখন তারা অবাক হয়ে যান। অন্য এক নারীর দাবি, তাকে শুধু পৌরসভায় আসতে বলা হয়েছিল; কেন আসতে হবে বা সেখানে কী কর্মসূচি রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। পরবর্তীতে তাদের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

তবে এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাদের দাবি, এটি সরাসরি এনসিপির কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি এনসিপির অঙ্গসংগঠনগুলোর দ্বারা আয়োজিত।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চারটি অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও নারীশক্তির ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার সাহারা খাতুন বলেন, “আমারে নিয়ে আইছে ট্রেনিংয়ের জন্য, আমরা নতুন আইছি। ওইটা জানি না, আমারে ইতি বলেছিল আসতে। ট্রেনিংয়ের জন্য নিয়ে আইছে, এখন দেখছি মিছিল।” সাহারা খাতুনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাকে প্রশিক্ষণের কথা বলে আনা হলেও পৌরসভা চত্বরে এসে তিনি জানতে পারেন যে সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

একই সময়ে কর্মসূচিতে আসার কারণ জানতে চাওয়া হলে অন্য এক নারী বলেন, “আমারে বলেছে পৌরসভায় আসা লাগবি। আমরা কি জানি নাকি কিসের জন্য আসতে বলেছে। আমারে পৌরসভায় আসতে কইছে তাই আইছি।”

বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এই দুই নারীর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে ভিডিও দুটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আগে থেকে কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

এই বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, “এটা এনসিপির কোনো বিক্ষোভ না। এটা এনসিপির অঙ্গসংগঠন আয়োজন করেছিল। তবে আমরা এই রাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমাদের যে কয়েকজন কর্মী আছে, আমরা তাদের নিয়েই রাজনীতি করি। এ বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবে।”

উল্লেখ্য যে, এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজ, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়ক মো. তাছের, যুবশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুরুজ হোসেন সম্রাট, ছাত্রশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মখলেচুর রহমান আয়াসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।