দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়া ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দুটি পুনরায় সচল করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন চীনা প্রকৌশলীরা। তবে এই ইউনিট দুটি ঠিক কোন সময়ে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারকাজের জন্য অচল থাকা ২ নম্বর ইউনিটটি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সাল থেকে বন্ধ থাকা এই ইউনিটটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ওভারহোলিং বা সংস্কারকাজের কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি চালু থাকা প্রথম ইউনিটটি গত সোমবার ভোর পৌনে ৬টায় এবং তৃতীয় ইউনিটটি মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে বন্ধ হয়ে যায়।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৬০-১৭০ মেগাওয়াট এবং প্রথম ইউনিট থেকে ৫০-৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এই দুটি ইউনিট সচল রাখার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩৪০০ টন কয়লার প্রয়োজন হতো।

একযোগে দুটি সচল ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি ইউনিট সচল করতে চীনা প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে ইউনিট দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকা ২ নম্বর ইউনিটটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করা সম্ভব হতে পারে।”