কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পাশাপাশি দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকার এবং এলাহাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে দেবীদ্বারের এলাহাবাদ বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একত্রিত হয়ে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা প্রদান করেন।
ভিডিও বার্তায় তারা অভিযোগ করেন যে, গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বাসভবনে বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের চলাকালীন ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সরকার ও এলাহাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপির দুঃসময়ে নজরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘ সময় ধরে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গত ১৭ বছর ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিজস্ব অর্থ ও শ্রম দিয়ে নিরলস সহযোগিতা করে এসেছেন। তাদের মতে, দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে একজন প্রবীণ বিএনপি নেতাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ, যা দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করার এবং দেবীদ্বারের এলাহাবাদ ইউনিয়নসহ তার নিজ এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানানো হয়।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এ বিষয়ে পরে আমি ব্রিফ করব। এখন আপাতত কিছু বলতে চাচ্ছি না।”