টানা কয়েক মাস দাম কমার পর এবার আবারও ঊর্ধ্বমুখী উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের মূল্য। গত তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ছে এই জ্বালানির। সর্বশেষ প্রতি লিটারে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা। উল্লেখ্য যে, এর আগের মাসেও দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬ টাকা ১৩ পয়সা।

আজ বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের মে মাস থেকে তারা প্রতি মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করে আসছে।

বিইআরসির নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ১.০৭৭০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.১৮৮২ ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগে ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত মার্চ মাসে দুই দফায় প্রতি লিটারে মোট ১০৭ টাকা দাম বেড়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরানে আক্রমণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ এই পুরো এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের সংঘাতের সময় জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে শুরু করে।

এর আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের প্রচলিত ধারা বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের আইনি এখতিয়ার বিইআরসি-কে প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেই প্রক্রিয়ার পর থেকেই প্রতি মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।