মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীনের অপসারণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজে নানা অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল চত্বরে প্রতীকী ঝাড়ু মিছিল বের করেন এবং ডা. বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা স্লোগান দেন, “বাহাউদ্দীনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে” এবং “আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান”।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে ডা. বাহাউদ্দীন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে হাসপাতালে অনিয়মের এক রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। হাসপাতালকেন্দ্রিক দুর্নীতির পাশাপাশি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে দাবি করা হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন আমির হামজা পিন্টু। তিনি বলেন, “এই বাহাউদ্দীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দাবি করে প্রভাব খাটিয়েছেন। স্বৈরাচারী সরকারের দোসর একজন কর্মকর্তা কীভাবে এখনো এত গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন, তা মানিকগঞ্জবাসী জানতে চায়।” তিনি ডা. বাহাউদ্দীনের অবিলম্বে অপসারণ এবং তার দুর্নীতির thorough তদন্ত চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর স্বপক্ষে সব প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষিত রয়েছে।

টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে ডা. বাহাউদ্দীন বলেন, “হাসপাতালের সব টেন্ডার ই-জিপির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই; নিয়ম মেনে যোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।”

রাজনৈতিক সখ্যের বিষয়ে তিনি আরও জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কেবল নিয়মমাফিজ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সত্যবহির্ভূত বলে দাবি করেন তিনি।