দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্যের আলো ছড়িয়েছেন রাজশাহী আলোর পাঠশালার দুই মেধাবী শিক্ষার্থী রাহি ও মোসা. সাদিয়া খাতুন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এই পাঠশালায় পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখা এই দুই শিক্ষার্থী এখন উচ্চশিক্ষার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। রাজশাহীর স্বনামধন্য বরেন্দ্র কলেজে ভর্তি হয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছেন তাঁরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাহি ও সাদিয়া দুজনেরই পরিবার অত্যন্ত ছোট। বাবা-মা এবং ছোট বোনকে নিয়েই তাঁদের সংসার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য এবং তীব্র অর্থকষ্টের মাঝে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাঁদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি; বরং স্বপ্নের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এক ধাপ এক ধাপ করে এগিয়ে গেছেন তাঁরা।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় অধ্যয়নকালে রাহি ও সাদিয়া ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও মেধাবী। তাঁরা শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য গড়ে তুলেছিলেন। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা, নিয়মিত পাঠদান ও সার্বিক উৎসাহ তাঁদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার প্রতিফলন ঘটেছে এসএসসি পরীক্ষার চমৎকার ফলাফলের মাধ্যমে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাহি ও সাদিয়া জানান, উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চান তাঁরা। প্রতিকূলতা জয় করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস—পরিশ্রম ও সততা থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে সফল হওয়া সম্ভব।
রাহি ও সাদিয়ার এই সাফল্যে আলোর পাঠশালার শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, রাহি ও সাদিয়ার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী আলোর পাঠশালা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালা সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে আসছে। রাহি ও সাদিয়ার এই সাফল্য ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শুধু প্রথাগত শিক্ষাই নয়, জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়ার সাহস ও দিশা দেওয়াই আলোর পাঠশালার মূল লক্ষ্য।