দেশের অলাভজনক সংস্থা বা এনজিওগুলোর জন্য দুঃসংবাদ হিসেবে সামনে এসেছে এক পরিসংখ্যান। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে ব্যাংকগুলোর সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি) অর্থায়নেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে; গত তিন বছরে এই অর্থায়ন কমেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অনুদানের এই ব্যাপক ঘাটতিতে চরম সংকটের মুখে পড়েছে দেশের এনজিওগুলো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং এনজিওগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সম্মেলনকক্ষে ‘বিদেশ-নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল। তার উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের এনজিওগুলোর প্রাপ্ত বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ছিল ৯৫৫ মিলিয়ন বা ৯৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।
বিদেশি অনুদানের পাশাপাশি এনজিওগুলো ব্যাংকের সিএসআর অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে সেখানেও মন্দা দেখা দিয়েছে। মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়েছিল ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার ও এনজিওর মধ্যে অর্থায়ন মডেল কী হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। এনজিওগুলো সব জায়গায় সেবা পৌঁছে দিতে পারে, যেখানে অনেক সময় সরকার যেতে পারে না। তাই আমরা এনজিওর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই।’
অন্যদিকে, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি তার বক্তব্যে জানান, এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি সামনে রেখে এনজিওগুলোর বিদেশি অর্থায়নের উৎস প্রায় শেষ হয়ে আসছে। বর্তমানে সবুজ অর্থায়ন এবং কার্বন অর্থায়নের মতো নতুন নতুন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশ–নির্ভরতা থেকে বের করে এনজিওগুলোকে এখন সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা করছে সরকার। সরকারের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় তাদের যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
সেমিনারটিতে বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।