হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এলাকায় একের পর এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ এই থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অতনু বণিকের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এএসআই অতনু বণিক। ভিডিওটিতে টাকা চাওয়া এবং তা হস্তান্তরের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গোপনে ধারণ করা এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা দ্রুত ভাইরাল হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ভিডিওটি ঠিক কবে, কোথায় এবং কোন নির্দিষ্ট মামলাকে কেন্দ্র করে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার ফলে চুনারুঘাট থানা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একই থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এবং ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) একই থানার আরেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াস হোসেনের ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে তাকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত এএসআই ইলিয়াস হোসেনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক রাজু এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এক দিনের ব্যবধানে একই থানার আরেক এএসআইয়ের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।”
তিনি আরও বলেন, “ভাইরাল ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এই পুরো ঘটনায় এএসআই অতনু বণিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, নতুন এই ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।