ডাইনোসর থেকে পাখির বিবর্তন এবং তাদের আকাশে ওড়ার ক্ষমতা অর্জনের রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব চীনে পালকযুক্ত একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন চাইনিজ একাডেমি অব জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের একদল জীবাশ্মবিদ। গবেষকদের ধারণা, এই প্রাচীন প্রাণীটি উড়তে সক্ষম ছিল। নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় প্যারাভেস গোত্রভুক্ত এই প্রাণীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা ডাইনোসরের আকাশে ওড়ার প্রচলিত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আবিষ্কৃত এই পালকযুক্ত ডাইনোসরটির নাম দেওয়া হয়েছে নোরেনল্র্যাপ্টর বার্সবোল্ডি। এটি মূলত মাইক্রোর‍্যাপ্টর প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যা আকারে ছোট এবং চার ডানাযুক্ত এক ধরনের ড্রোমেইওসারিড ডাইনোসর। প্রায় ৫৭ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এই মাইক্রোর‍্যাপ্টরটির জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৃত্যুর সময়ে প্রাণীটি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলেও এর সামনের অঙ্গ এবং লেজ ওড়ার উপযোগী পালকে ঢাকা ছিল। তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মাইক্রোর‍্যাপ্টর এবং পাখি—উভয় প্রজাতিরই ওড়ার ক্ষমতা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তারা একই পূর্বপুরুষ থেকে এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি লাভ করেছে।

পাখি এবং মাইক্রোর‍্যাপ্টরের আকাশে ওড়ার ধাপগুলো সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাদের শারীরিক বিকাশের পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন। নোরেনল্র্যাপ্টরের হাত বা ডানার বিকাশ অনেক আগেই থেমে গিয়েছিল। এই বিষয়ে চাইনিজ একাডেমি অব জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ জুরি ওয়াং জানান, “দুটি ভিন্ন বংশধারায় ওড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বৈশিষ্ট্যগুলোর বিকাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে ঘটেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাইক্রোরাপটরাইনা উপগোত্রের অনন্য অঙ্গের বৃদ্ধির ধরন এটিই প্রমাণ করে যে উড্ডয়নক্ষম ডাইনোসরের উৎপত্তিতে একাধিক স্বাধীন ও ভিন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া কাজ করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাভেস গোত্রের মধ্যে অভিসারী বিবর্তন ঘটে থাকতে পারে, যেখানে দুটি আলাদা গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে একই পরিণতির দিকে পৌঁছেছিল। তবে জীবাশ্মবিদেরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন; তারা মনে করেন মাত্র একটি জীবাশ্মের ওপর ভিত্তি করে বিবর্তনের পুরো ইতিহাস বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই তত্ত্বের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণের জন্য তারা আরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।